সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা চর্চায় গুরুত্ব দিয়ে টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে বাংলাদেশ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬

বাংলাদেশে সফলভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য এবং একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে ব্যবসায়ীদের সেবা প্রদান প্রসঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখাটা অতীব জরুরি বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলাপচারিতায় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে ‘বিজনেস ক্লাইমেট ইন বাংলাদেশ: ইস্যু অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ অব ইথিক্যাল প্রাক্টিস’ শীর্ষক আলোচনাটির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মোয়াজ্জেম। এই সময় তিনি বলেন, ব্যবসার ওপর পরিচালনা ব্যয় কমাতে এবং সরকারি পরিষেবার মান উন্নয়নের জন্য ‘বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মো. আবদুর রহিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য লাইসেন্স, নিবন্ধন, নবায়ন ও কাস্টমসের সেবা প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশ নেওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম স্বীকার করেন যে, সরকারি কর্মপ্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা রয়েছে যা সহজীকরণে সম্ভব। তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ করেন, কোনো হয়রানির শিকার হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিতে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক, আইনী ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে, যেখানে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব অপরিসীম। এরপর ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন ও সিঙ্গল উইন্ডো সার্ভিসের মতো সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। আইবিএফবির পরিচালক এম এস সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, অনেক সময় সরকারি আইন-নীতিগুলি ব্যবসা সহজ করার উদ্দেশ্যের বিপরীত বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় যা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের অন্তর্বর্তী সময়ের মধ্যে বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগ নিলেও, আচরণগত পরিবর্তন সবচেয়ে জরুরি। আইবিএফবির সভাপতি লুৎফুন্নিসা সাউদিয়া খান বলেন, ‘নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা, টেকসই উন্নয়ন এবং দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে অপরিহার্য। উদ্যোক্তাদের একা আইনী ব্যবস্থা দিয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উন্মুক্ত সংলাপ এবং দায়বদ্ধ অংশীদারিতা।’ সভার শেষ বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মো. আবদুর রহিম খান আশ্বাস দেন, ব্যবসায়ীদের ওপর ওঠা বিভিন্ন পরামর্শ সরকারকে জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, ন্যায্য利润 কমিয়ে সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো একান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা, এর পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স উইংয়ের প্রধান মো. জাফর ইকবাল ও মহাসচিব মো. আলমগীর।