নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত প্রায় ২০০

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬

নাইজেরিয়ার পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের দুটি পৃথক ও নৃশংস হামলায়

অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্বোয়ারা ও কাটসিনা রাজ্যে এই

রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ

নিরাপত্তা বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয়

প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হামলা

চালায় এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি ব্যাপক লুণ্ঠন ও

অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।

হামলার সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্বোয়ারা রাজ্যের ওরো

গ্রামে। স্থানীয় আইনপ্রণেতা সাইদু বাবা আহমেদ এবং মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি

ইন্টারন্যাশনালের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল এই গ্রামেই অন্তত ১৭০ জনকে

হত্যা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে

গ্রামবাসীদের হাত বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে এবং পরে পুরো

গ্রামজুড়ে দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই বর্বরোচিত হামলার পর থেকে

বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ওরো গ্রামের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরাঞ্চলীয় কাটসিনা রাজ্যে আরেকটি

সশস্ত্র দল ঘরে ঘরে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২১ জনকে হত্যা করে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে

নাইজেরিয়ার সরকারি বাহিনীর কঠোর সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো

হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী একটি সমন্বিত অভিযানে অন্তত

১৫০ জন জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছিল। ওরো গ্রামের বাসিন্দারা মনে করেন, হামলাটি বোকো

হারামের সঙ্গে যুক্ত কোনো চরমপন্থী গোষ্ঠীর কাজ হতে পারে। অন্যদিকে, কাটসিনা রাজ্যে

দীর্ঘ ছয় মাসের শান্তিচুক্তি ভেঙে এই হত্যাযজ্ঞ শুরু হওয়ায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা

ব্যবস্থা চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গ্রামাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর

পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অবাধে বিচরণ করছে বলে অভিযোগ

উঠেছে।

বর্তমানে নাইজেরিয়া এক জটিল ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও আইএসের মতো বৈশ্বিক চরমপন্থী

গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে, অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা

সশস্ত্র দলগুলোর দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় নাইজেরিয়া সরকার

এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করেছে। ডিসেম্বরের শেষ

দিকে মার্কিন বাহিনী দেশটিতে কয়েকটি ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ বিমান হামলা

চালানোর পর বর্তমানে নতুন করে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছেন।

অটোমেটিক অস্ত্রসজ্জিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান তৎপরতায় নাইজেরিয়ার

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। সরকার ও

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার অভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে

বলে সতর্ক করেছেন পর্যবেক্ষকরা।