সরকারের সিদ্ধান্ত: ২ লাখ ১০ হাজার টন সার ক্রয়ে ব্যয় হবে ১৩৭০ কোটি টাকা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬

দেশের কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বড় আকারে সার আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎস থেকেও সার সংগ্রহের। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় জানানো হয়, মরক্কো, সৌদি আরব এবং দেশের কৃতী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে মোট ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার কিনতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বড় সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৮০ হাজার টন ডিএপি, ৭০ হাজার টন ইউরিয়া এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি সার। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৭০ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৫ টাকা।

বৈঠকসূত্রে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে ৩১৯ কোটি ৫১ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যায়ে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানি অনুমোদন হয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি টন ডিএপি সারির মূল্য ধরা হয়েছে ৬৫১ মার্কিন ডলার। এছাড়া, মরক্কোর একই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও দুই দফায় মোট ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন মেলেছে, যার জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩০ টাকা। প্রতি টন টিএসপির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৫০১.৩৩ মার্কিন ডলার।

অন্য এক প্রস্তাব অনুযায়ী, সৌদি আরবের মা’আদেন ও বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের প্রথম লটে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর জন্য ব্যয় হবে ৩২৩ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যেখানে প্রতি টনের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৬৬০ মার্কিন ডলার।

এর পাশাপাশি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিনেটস কোম্পানি থেকে ২০৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪০ টাকায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন পেয়েছে। এই সারটির প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৪১৮.৩৩ মার্কিন ডলার। অন্য এক প্রস্তাবে, একই অর্থবছরের জন্য, ৪১৫.৮৭৫ মার্কিন ডলার দরে ১৫৩ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৫ টাকায় স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।