বাংলাদেশের প্রতি সংহতি ও আইসিসির পক্ষপাতিত্বের প্রতিবাদ: পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটে এক ইতিহাসের কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে পাকিস্তান। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে তারা ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচটি খেলবে না। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং বাংলাদেশের প্রতি বৈষম্য প্রতিবাদ।ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে এই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতবিরোধী ঐতিহাসিক ম্যাচটি খেলা থেকে পাকিস্তান সরকার বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার মূল কারণ হলো, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পক্ষপাতপূর্ণ আচরণ এবং বাংলাদেশের প্রতি অবিচার চোখে পড়েছে পাকিস্তানের। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ইসলামাবাদের শক্ত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির বৈঠক। পাকিস্তানের যোগ্য বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসি বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার নিরপেক্ষতা হারিয়ে এক দেশের স্বার্থে কাজ করছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে তাদের নিরাপত্তা ও বৈষম্যের কারণে পাকিস্তান এই পরিস্থিতি মানতে নারাজ। পাকিস্তানের এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপকে ক্রিকেটের জগতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।এতদিনের এই সংকটের শুরু হয় যখন বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতের আইপিএল থেকে নিরাপত্তার উদ্বেগে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর, বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং মনোযোগ দেয়, একে বৈষম্য বলে আখ্যা দেয়। তবে আইসিসি বাংলাদেশের দাবিকে মানতে অস্বীকৃতি জানায় এবং টুর্নামেন্টের সূচির সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না করে, বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে বলে মনে করা হচ্ছে যে, আইসিসির দীর্ঘদিনের নেতৃত্বে থাকা ভারতের জয় শাহের প্রভাব রয়েছে।এখন পাকিস্তান মনে করে, আইসিসি এক দেশের স্বার্থে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায়বিচার ভেঙে পড়ছে। পাকিস্তানের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে আইসিসির চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভারতের জয় শাহের বিজয় এ বিষয়কে আরও জটিল করে তুলেছে। পাকিস্তান এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ঘোষণা করেছে, তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাকিস্তান জানাতে চায়, ক্রিকেটে সমঅধিকার ছাড়া কোনো অন্যায্য সিদ্ধান্ত মানা হবে না। এই পদক্ষেপ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে অপ্রত্যাশিত উত্তাপ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে। পাকিস্তান এই প্রতিবাদ করে বলে মনে করছে, যদি ক্রিকেটে বিনা শর্তে সমতা নিশ্চিত না হয়, তবে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না।