স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: দুই দিনে ভরিতে ৩০ হাজার টাকার বেশি কমলো মূল্য

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের স্বর্ণের বাজারে রেকর্ড উচ্চতার পর হঠাৎ করেই বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে দেশের বাজারে মানসম্পন্ন স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি কমে গেছে ৩০ হাজার টাকার বেশি। এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে অসাধারণ দরপতনের প্রভাব রয়েছে, যা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বিশেষ করে লক্ষ্য করেছে। সংগঠনটি সর্বশেষ ঘোষণা দিয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হবে।

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, বাজুসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন দর নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে, সূচক ভিত্তিতে হিসেব করলে স্বর্ণের নতুন দাম আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে, ২২ ক্যারেটের মানের এক ভরির দাম এখন ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায় নেমে এসেছে, যা গত বৃহস্পতিবার ছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকার সামান্য বেশি।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিশ্বব্যাপী স্বর্ণ ও রুপার দামে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। জনপ্রিয় স্বর্ণমূল্য নিরীক্ষণ ওয়েবসাইট ‘গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি’ এর তথ্যমতে, শনিবার সকাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের দিন এই দাম ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার, এবং শুক্রবারও এটি ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। এই বিশ্ববাজারের দরপতনের প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ এখন ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকায় বিক্রি হবে। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা। পাশাপাশি, রুপার দামেরও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা এখন ৭ হাজার ২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকায় বিক্রি হবে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহটি বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারের জন্য ছিল সবচেয়ে অস্থির। গত বৃহস্পতিবার স্বর্ণের মূল্য এক লাফে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পর্যন্ত তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই দাম কমিয়ে প্রথম দফায় ১৪ হাজার ৬০০ টাকা হ্রাস করা হয়। এরপর, শনিবার দ্বিতীয় দফায় আরও ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা মূল্য কমানোর মাধ্যমে দুই দিনে মোট পর্যন্ত দাম কমেছে ৩০ হাজার ৩৫৯ টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মন্তব্য, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের আচরণই এই রেকর্ড উত্থান-পতনের মূল কারণ, যা দেশীয় বাজারে এমন অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটিয়েছে।