রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতা ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে: চার বছরে হতাহত হয়েছে ১৮ লাখের বেশি সেনা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ বিগত চার বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি একেবারেই অসাধারণ ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই দীর্ঘস্রোত সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের সেনাদের বিশাল সংখ্যক হতাহতের খবর বিশ্ববাসীর চোখে এসেছে, যা আধুনিক যুদ্ধের ইতিহাসে বিরল এবং খুবই ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস) গত মঙ্গলবার তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই রক্তাক্ত যুদ্ধের মোট নিহত, আহত ও নিখোঁজ সেনাদের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৮ লাখেরও বেশি। বিশ্ব সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সূত্রে জানা গেছে, এই হতাহতের সংখ্যা মূলত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সংকলিত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে রাশিয়ার পক্ষের। রাশিয়ার মোট ক্ষতি প্রায় ১২ লাখের ও বেশি এবং এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি সেনা, যাদের অনেকেই আর ফিরে আসেননি। বাকিরা গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, আবার কিছু সেনা নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। সিএসআইএস এ বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনও বৃহৎ শক্তিধর দেশের সেনাবাহিনী এমন বড় আকারে হতাহত হয়েছে, যা রুশ বাহিনীর জন্য এক ঐতিহাসিক এবং অপূরণীয় ধাক্কা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত চার বছরে ইউক্রেনের প্রায় ৬ লাখ সেনা নিহত, আহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। বিশেষ করে ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দীর্ঘ সংঘাত কেবল সামনের লড়াই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রভাব পড়ে দেশের জনবল ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়েও। সিএসআইএস সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের বসন্তের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণে উঠে ২০ লাখ ছাড়াতে পারে। প্রথমে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু হয়। মূল কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে, ক্রিমিয়া উপদ্বীপের রুশ গ্রহণ, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের জোর প্রচেষ্টা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক উত্তেজনা। এই সংঘাতের শুরুতে আন্তর্জাতিক মহলে শান্তি প্রতিষ্ঠার নানা চেষ্টা চললেও, মাঠের পরিস্থিতি এখনো শান্ত হয়নি বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাপী এটি একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা শুধুমাত্র দুই দেশের জন্য নয়, seluruh মানব সম্প্রদায়ের জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে এবং দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগী হতে হবে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: