ঢাকায় বাতাসের মান ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’: বিশ্বের শীর্ষে বাংলাদেশের রাজধানী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬

আজ বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহর হিসেবে তালিকায় শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকা। সকাল থেকেই ঢাকার বাতাসের মান জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ু মান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজুয়াল’ এর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, আজ সাড়ে ৯টার সময় ঢাকার স্কোর ছিল ৩১৪। এই স্কোর বাতাসকে সংজ্ঞায়িত করে ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ বা বিপজ্জনক হিসেবে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ।  

বিশ্বের অন্যান্য শহরের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো, যার একিউআই স্কোর ছিল ২৫০। তৃতীয় স্থানে রয়েছে আফগানিস্তানের কাবুল, এরপরেই অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। এই সূচক অনুযায়ী, বাতাসের মান যখন ৩০১-এর বেশি হয়, তখন তা মানবদেহের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বা ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আজ ঢাকায় সেই বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করায় শহরবাসীর শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এক নজরে একিউআই মানদণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ০ থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোর হলে বাতাসের মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে তা মধ্যম মানের, আর ১০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে হলে তা অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু ঢাকার বর্তমান স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি মোটেও সাধারণ নয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি ব্লক করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং দুর্বল বাতাসে একত্রিত হয়ে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।

বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞরা আরো জানিয়েছেন, শীতে শুষ্ক আবহাওয়ার পাশাপাশি পরিকল্পনাহীন নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ঢাকার বাতাসের মান দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বাড়ির বাইরে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকরী সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ না হলে এই দুর্বিষহ পরিবেশের সমাধান কঠিন হয়ে উঠবে। এখনই সময় পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন।