সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ব্যাপক সম্প্রসারণ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

আগামী অর্থবছর থেকে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতা বাড়ানো হচ্ছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বয়স্ক ভাতা কর্মসূচির ক্ষেত্রে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে মোট ৬২ লাখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে, প্রায় ৬০ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি এখন থেকে মাসে ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবেন, যা আগের ৬৫০ টাকার চেয়ে বেশি। ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২ দশমিক ৫ লাখ প্রবীণ ব্যক্তিও প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা ভাতা পাবেন।

একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিধবা ও স্বামী-পরিত্যক্ত নারীদের ভাতা কর্মসূচি উন্নত করা হয়েছে। এতে ২৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮.৭৫ লাখ নারী এখন প্রাথমিকভাবে ৭০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন, এর আগে তিনি ৬৫০ টাকা পেতেন। আরও, ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২৫ হাজার বিধবা বা স্বামী-পরিত্যক্ত নারীর জন্য মাসিক ভাতা নির্ধারিত হয়েছে ১,০০০ টাকা।

প্রতিবন্ধী এবং শিক্ষার্থী ভাতা ও উপবৃত্তির ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন সাধারণত মাসে ৯০০ টাকা পাবেন, আর ১৮ হাজার ১০০ জন পাবেন ১,০০০ টাকা। এছাড়া, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক উপবৃত্তির হার বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক দিন হিসেবে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১,০০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১,১০০ টাকা এবং উচ্চশিক্ষায় ১,৩৫০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যা আগের থেকে ৫০ টাকা বেশি।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য চালানো প্রকল্পেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ৭,০০০ বাড়িয়ে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। তাদের জন্য মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে, তাদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও মেধা বৃত্তির আওতা বাড়ানো হয়েছে। এখন ৪৫,৩৩৮ জন শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবেন, যা ৩,১৯৮ জন বেশি।

এই বৃত্তি ও উপবৃত্তির পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মাসে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১,০০০ টাকা এবং উচ্চশিক্ষায় ১,২০০ টাকা পাইবেন। পাশাপাশি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫ হাজার ৪৯০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা বিষয়েও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য উপকারভোগীর সংখ্যা ৫,০০০ বাড়িয়ে মোট ৬৫,০০০ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, এককালীন চিকিৎসা সহায়তার অর্থ ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর আওতায় মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে মোট ১৮,৯৫,২০০ জনে পৌঁছেছে। এতে প্রতিটা মা মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা পাবেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিও সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে, ৬০ লাখ পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে, যা আগের থেকে ৫ লাখ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি পরিবার ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল ১৫ টাকা কেজি দরে পেয়েছে।

গত রোববার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পর্কিত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫,০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়াও, এই মন্ত্রণালয়ের আওতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য নতুনভাবে মাসিক সম্মানী চালু এবং তাদের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভিজিএফ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরে আরও ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে মোট জেলের সংখ্যা ১৫ লাখে উন্নীত হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।