যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড়ের দাপট Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ভয়াবহ একটি তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপকমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশটিতে ইতিমধ্যে প্রায় ১৩০০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা সাধারণের জন্য বড় ধাক্কা। নিউ মেক্সিকো থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছেন। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত দাক্ষিণ্য রকি পর্বতমালা থেকে নিউ ইংল্যান্ডের বিস্তৃত এলাকায় ব্যাপক তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি এবং বরফবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, এই দুর্যোগের ফলে কয়েক দিন ধরে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন সান্তোরেলি জানিয়েছেন, এই তুষার ও বরফে দ্রুত গলতে সক্ষম হবে না, ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসতে অনেক সময় লাগবে। এর ফলশ্রুতিতে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজগুলোও ব্যাহত হতে পারে। অন্তত ১২টি অঙ্গরাজ্য এই ঝড়ের প্রভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখতে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সতর্কতামূলক ত্রাণসামগ্রী, জনবল ও অনুসন্ধান-উদ্ধার দল মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম। তিনি জনগণকে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ঝড়ের কারণে শনিবার পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বাড়িঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টেক্সাস ও লুইজিয়ানায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যেখানে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের লাইনে ছিদ্র পড়ে বিকট শব্দে বিদ্যুৎনষ্ট হয়েছে। গাছের ভারে ভারী হয়ে এ হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এত বড় আকারের এই বরফবৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব অন্য কোনও ঝড়ের উপস্থাপনার মতোই ভয়াবহ হতে পারে। অন্যদিকে, ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যানুযায়ী, এই ঝড়ের কারণে শনিবার ও রোববারে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কমপক্ষে ১৩ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ওকলাহোমা সিটির উইল রজার্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বেশ কিছু বড় বিমানবন্দর এই বাতিলের তালিকায় রয়েছে। শিকাগো, আটলান্টা, ন্যাশভিল, নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটের মতো বড় বিমানবন্দরগুলোতেও কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, ঝড়টি উত্তর-পূর্বের দিকে এগিয়ে চলে যেখানে নিউইয়র্ক ও বোস্টনের মতো শহরগুলোতে ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখযোগ্যত, এই শীতঝড়ের কারণে অঙ্গরাজ্যগুলোতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ন্যাশভিলে দর্শকবিহীনভাবে আয়োজন করা হয়েছে গ্র্যান্ড ওলে অপ্রির অনুষ্ঠান, লুইজিয়ানার মার্ডি গ্রাস প্যারেডও বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝড়ের অন্যতম ব্যতিক্রমী দিক হলো এর ব্যাপ্তি এবং পরবর্তী তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। দেশের প্রায় দুই হাজার মাইলজুড়ে এই ঝড়ের প্রভাব পড়ছে, যা বর্তমানে বিরল ঘটনা। ভয়াবহ এই শীতকালীন ঝড়ের ফলে, যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। গাছে ভেঙে গ্যাসের লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় এই ভয়াবহতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ফ্লাইটের সংখ্যা কমে গেছে এবং জনজীবন স্থবির হয়ে পরেছে, বিশেষ করে টেক্সাস ও লুইজিয়ানায়। সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এই ভয়ঙ্কর শীতকালীন ঝড়ের কারণে দেশটি ইতিমধ্যে ১৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। মার্কিন আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলছেন, শিলাবৃষ্টি, বরফশীতল বৃষ্টিপাত ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সঙ্গে সঙ্গে ২৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত দেশের পূর্বাঞ্চলের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে এই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যায়িত করে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল জরুরি অবস্থা জারির অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ‘আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি এবং ঝড়ের কবলে থাকা সব অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছি। সবাই নিরাপদ থাকুন এবং উষ্ণ থাকুন।’ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এখনও ১৭টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি এই জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তারা বলছেন, হাজারো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন ও দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরত আনতে কাজ চলছে। বিশেষ করে টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জরুরি আদেশ জারি করে, ব্যাকআপ জেনারেটর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। ডেটা সেন্টার ও অন্যান্য বড় স্থাপনায় ব্যাকআপ জেনোরেটর চালু রাখতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই দীর্ঘস্থায়ী বরফ ও ঠান্ডা প্রবাহ দক্ষিণ-পূর্বের অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আনতে পারে। সোমবারের মধ্যে গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ শীত ও বিপজ্জনক ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য মতে, শনিবার রাত ১০টায় পর্যন্ত চার হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। রবিবারের জন্যও আরও প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ফ্লাইট বাতিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বড় এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: