নড়বড়ে কাঠের ব্রিজে জীবনঝুঁকি নেয় এলাকাবাসী Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ নড়বড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী কাঠের ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন এলাকার সাধারণ মানুষ জীবনরিস্ক নিয়ে পারাপার করছেন। দীর্ঘদিন ধরে কোনও স্থায়ী ব্রিজ না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা, দ্বায়িতা আর আশঙ্কার কারণে কখনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। এই কাঠের ব্রিজটি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ওমরাবাজ গ্রামে, হাবিবউল্লা মাঝি বাড়ি তাঁরিমসজিদ সংলগ্ন বাসিরদোন খালের উপর নির্মিত হয়েছে। জানা যায়, এই খালটির দুই পাশে প্রায় ১৫০ পরিবার বসবাস করে। এই গুরুত্বপূর্ণ খাল পারাপারের জন্য স্থানীয়রা পাঁচ বছর আগে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী একটি ব্রিজ তৈরি করেন। শুরুতে এটি কিছুটা স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ব্রিজের মধ্যিখানে কিছু অংশ ভেঙে গেছে, অনেক স্থানে কাঠ ও বাঁশের অংশ ভেঙে টিকে থাকা দুর্বল হয়ে পড়েছে। পানি বাড়লে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় কারণ বর্ষাকালে কেউ এই ব্রিজ দিয়ে পার হতে সাহস করে না। তবে ক্ষেত্রবিশেষে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, নারী ও বৃদ্ধরা এই ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন, যা খুবই বিপজ্জনক। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ব্রিজটি না থাকলে কিছু গ্রাম একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়া, রোগী পরিবহন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কাজে büyük বিপদে পড়তে হবে। জরুরি সময়ে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে বলে অনেকে জানিয়েছেন। ফয়জুল্লাহ মাঝি বলেন, ‘প্রথমে এই খালের ওপর একটি সাঁকো ছিল, যেখান দিয়ে চলাচল করাটা অনেক কষ্টের ছিল। তারপর আমরা এলাকার মানুষ মিলে পাঁচ বছর আগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে এই ব্রিজটি বানিয়েছি। তবে এখনো পর্যন্ত কোনও স্থায়ী ব্রিজ না হওয়ায় খুবই বিপদে রয়েছি। অসুস্থ রোগীদের তড়িঘড়ি আনা নেওয়া করা সম্ভব নয়, এ জন্য সরকারকে একটা স্থায়ী ব্রিজের দাবি জানাচ্ছি।’ ব্যবসায়ী শাহিন বলেন, ‘আমি বাসিরদোন বাজারের একজন ব্যবসায়ী। প্রতিদিন আমি সাইকেল চালিয়ে চলাচল করি। কিন্তু এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে সাইকেল চালানো সম্ভব নয়। এই খালের ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ খুবই প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্রিজ না থাকায় চলাচলে বড় অসুবিধায় পড়েছি।’ মসজিদের ইমাম মাওলানা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি এই এলাকায় পরিস্থিতির কথা জানাই। এই খালের ওপরে এক সময় একটি সরু সাঁকো ছিল। পরে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি ব্রিজ বানিয়েছেন। কিন্তু সেটি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যখন রোগী বা অসুস্থ মানুষ থাকেন, তখন তাঁদের কাঁধে করে এই ব্রিজ পার করেই গাড়িতে তুলতে হয়। এলাকাবাসীর দাবি, এই অবস্থার পরিবর্তে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ দরকার।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি.এম ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গ্রামীণ সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলায় এর আগে এই ধরনের প্রকল্পের কাজ চলছিল, তবে বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে কাজ শুরু হলে এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ SHARES সারাদেশ বিষয়: