সংকোচিত খানাখন্দেভরা সড়ক, ভোগান্তিতে উত্তরাঞ্চলের মানুষ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:০৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬

দেওয়ানগঞ্জ-রৌমারী সড়কটি অপ্রশস্ত-সরু। যানবাহনের তুলনায় এর প্রশস্ততা স্বল্প। কিছু

অংশে ভাঙাচোরাও। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যানবাহনচালক ও যাত্রীদের। সড়কটি ভাঙা অংশ

সংস্কার ও প্রশস্তকরণ করে রৌমারী থেকে দেওয়ানগঞ্জ জামালপুর হয়ে ঢাকা পথে সচরাচর বাস

সার্ভিস চালু এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি হলেও বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেই। এতে হতাশায়

ভুগছেন উত্তরাঞ্চলের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকদের দাবি, সড়কটি

প্রশস্ত করা হলে দুর্ঘটনা কমবে এবং যাতায়াতে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে। তারা দ্রুত

সড়কটি প্রশস্ত করে বাস সার্ভিস চালু করে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন।

সড়কটির শোকগাঁথা : পচিশ বছর আগের কথা। দেওয়ানগঞ্জের উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নের

সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ছিলনা। পোল্যাকান্দিতে ব্রহ্মপুত্র নদদ্বারা এ

উপজেলা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। তখন উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি ইউনিয়নসহ রাজিবপুর, রৌমারী

উপজেলার মানুষকে দেওয়ানগঞ্জ সদর কিংবা জামালপুর হয়ে ঢাকা যেতে হলে ব্রহ্মপুত্র নদ

নৌকায় পাড়ি দিতে হতো। উত্তর অংশের কয়েক লক্ষাধিক মানুষের জীবন ছিল মানবেতর। পিছিয়ে

ছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ উন্নয়নের বিভিন্ন সূচক। উত্তরাঞ্চলে ভালো কোনো শিক্ষা

প্রতিষ্ঠান ছিল না। ছিল না স্বাস্থ্যসেবার জন্য আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা।

সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ছিল না কর্মসংস্থানের সুযোগ। আধুনিক ও উন্নত যাতায়াত

ব্যবস্থার অভাবে উত্তরজনপদের জীবন ছিল চরমভাবে অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ।

এদিকে, বিগত বিএনপি সরকার আমলে তৎকালীন এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সময়

ব্রহ্মপুত্র নদে পোল্যাকান্দিতে দীর্ঘ সেতু নির্মিত হয়। স্থাপিত হয় সরাসরি সড়ক

যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাল্টে যেতে থাকে উত্তর জনপদের জীবনমান। উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে

নাগরিক জীবনের সকল সূচকে। আধুনিকতা ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে ওই অঞ্চলের মানুষের

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায়। বাড়তে থাকে তাদের নাগরিক সুবিধা। নতুন নতুন সৃষ্টি হয়

কর্মসংস্থানের। প্রসার ঘটতে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্যের। উন্নয়ন হয় হাট-বাজারের।

উত্তরাঞ্চলবাসীদের উপজেলা সদর তথা জেলা ও রাজধানীতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পোহাতে হয়

না নদীপারাপারের দুর্ভোগ। লাঘব হতে থাকে দুর্দশা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রৌমারী থেকে রাজিবপুর হয়ে দেওয়ানগঞ্জের পাথরেরচরের উপর দিয়ে

একটি হাইওয়ে সড়ক নির্মিত হয়েছে। সড়কটি বকশীগঞ্জ হয়ে ঢাকার দিকে চলে গেছে। সড়কটি

উত্তরাঞ্চলবাসীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে উপযোগীতা বয়ে আনলেও এ ক্ষেত্রে প্রাচীন

ঐতিহ্যবাহী জনপদ দেওয়ানগঞ্জ রয়েছে যাতায়াতে সহজলভ্যতা ও উন্নয়নের আড়ালে। দেওয়ানগঞ্জ

হয়ে জামালপুর ঢাকাগামী উপযোগী সড়ক নির্মিত হয়নি। পাথরেরচর থেকে তারাটিয়া বা

কাউনিয়ারচর থেকে সানন্দবাড়ী হয়ে তারাটিয়া অপ্রশস্ত ভাঙাচোরা সড়ক রয়েছে। তাতে

ছোটখাটো যানবাহন চলাচল করলেও ভারী যানবাহনের চলাচলের ক্ষেত্রে সড়কটি উপযোগী নয়।

বিগত সরকার আমলে সড়কটির দেওয়ানগঞ্জ জিরো পয়েন্ট থেকে ঝালরচর এবং ঝালরচর থেকে

তারটিয়া পর্যন্ত কিছুটা প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ হয়েছে। তাতেও কিছু অংশের কাজ অসমাপ্ত

রয়েছে। নতুন প্রশস্তকৃত সড়কটিও যানবাহনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ সড়কে প্রতিনিয়ত

ইজিবাইকসহ ভারী যানবাহন চলাচল করে। যানবাহনের তুলনায় সড়কটি যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন

এলাকাবাসী পথচারী ও যানবাহন চালক।

ওই সড়কে তারাটিয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে একটি, ঝালরচর বাজারের উত্তর পাশে একটি ও

সানন্দবাড়ী চরমাদারের পাশে একটি মোট তিনটি ব্রিজ অত্যন্ত অপ্রশস্ত। ব্রিজ তিনটিতে

দুটি ভারী যানবাহন ক্রসিং করতে পারে না। ক্রসিংয়ের ক্ষেতে একটি যানবাহনকে ব্রিজের

বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচলে দুর্ঘটনার শঙ্কায় ভুগেন যাত্রী ও

যানবাহনের চালক। প্রতিদিন এ ঝুঁকি বাড়ছেই। ওই স্থানে প্রশস্ত ব্রিজ নির্মাণের দাবি

এলাকাবাসী পথচারী ও যানবাহনচালকদের থাকলেও কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে

অভিযোগ রয়েছে। দাবি ওঠলে বারংবার ‘করা হবে’ বলে সাফাই গেয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। পরে আর

কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীদের। ব্রিজ তিনটি প্রশস্ত করে নির্মাণ

করা না হলে বড় ধরণের দুর্ঘটনার শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ঝালরচরের ইজিবাইক চালক আবু হানিফের ভাষ্য, রাস্তা অপ্রশস্ত ও ভাঙাচোরার কারণে সদরের

অটোচালকগণ সরাসরি সানন্দবাড়ী যেতে চান না। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাত হয়। ভেঙে

ভেঙে যেতে হয়। সড়কটি প্রশস্তকরণসহ ভাঙা অংশ সংস্কার করা হলে সরাসরি সানন্দবাড়ী,

কাউনিয়ারচর, বাঘারচর, রাজিবপুর ও রৌমারীতে যানবাহন চলাচল করতো। তাতে যাত্রী ও

যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ লাঘব হতো।

জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজজিদ আহম্মেদ বলেন, ওই সড়কের দেওয়ানগঞ্জ থেকে

তারাটিয়া পর্যন্ত সংস্কারসহ প্রশস্তকরণ করা হয়েছে। সড়কটি দেওয়ানগঞ্জ থেকে রৌমারী

পর্যন্ত আরো প্রশস্তকরণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে রোডস এন্ড হাইওয়েতেও

চাহিদা পাঠানো হবে।