চালু হওয়ার এক দিন পরেই অচল বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ১:২৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জাপানের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুনরায় চালু হলেও মাত্র এক দিনের মাথায় আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছে। রাজধানী টোকিও থেকে ২২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নিগাতা বন্দরশহরে অবস্থিত ৪২০ হেক্টর আয়তনের এই বিশালাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে মোট সাতটি পরমাণু চুল্লি রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ৮ দশমিক ২ মেগাবাইট। জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি বা টেপকো এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির প্রভাবে সৃষ্ট ফুকোশিমা ট্র্যাজেডির জেরে জাপানের ৫৪টি পরমাণু চুল্লি বিধ্বস্ত ও অচল হয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রের চুল্লিগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে যে ৩৩টি চুল্লি মেরামতের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল, তার মধ্যেই ছিল এই কেন্দ্রের চুল্লিগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় জাপান সরকারের সিদ্ধান্তে গত ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর তোড়জোড় শুরু হয় এবং মেরামতের কাজ শেষ করে টেপকো গত ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তবে পুনরায় চালুর আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; এক দিন পরই ২২ জানুয়ারি কেন্দ্রটির ৬ নম্বর চুল্লিতে গুরুতর যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিলে টেপকো কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। কোম্পানির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, যান্ত্রিক গোলযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রটির অ্যালার্ম ব্যবস্থাতেও ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে, যা বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে টেপকো তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, “আমরা যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করছি। কী কারণে এই সমস্যা দেখা গেল— তা জানতে তদন্তও শুরু হয়েছে। আপাতত কাশিওয়াজাকি-কারিয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ আছে। এই ত্রুটি সারানো বেশ সময়সাপেক্ষ। তাই কবে থেকে ফের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হবে— তা এখনই বলা যাচ্ছে না”। বর্তমান কারিগরি সংকট নিরসনে তদন্ত ও মেরামত কাজ চলমান থাকলেও উৎপাদন পুনরায় শুরুর বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা পাওয়া যায়নি। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: