বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অশান্তি ও অস্থিতিশীলতা: শিক্ষক নেটওয়ার্কের উদ্বেগ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২৬ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর চলমান অস্থিতিশীলতা ও অশান্তির কারণে শিক্ষক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) থেকে দুই শিক্ষককে বরখাস্তের ঘটনায় এর মধ্যেই উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। শিক্ষক নেটওয়ার্ক এ ঘটনায় প্রবল প্রতিবাদ জানিয়ে বলছে, এটি শিক্ষকদের স্বাধীনতা নিঃশেষের পরিণতি। সংগঠনের মতে, এই ধরনের কার্যক্রম ‘মাস্তান ও মেরুদণ্ডহীন শিক্ষকদের সংযোগ’ হিসেবে দেখা উচিত, যা ভবিষ্যতে শিক্ষার উন্নয়ন নিশ্চিত করবে না। ২১ জানুয়ারি রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষক লায়েকা বশীর ও এ এস এম মোহসীনকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদ জানানো হয়। এসময় সংগঠনের পক্ষ থেকে চারদফা দাবি উপস্থাপন করা হয়, যাতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকরা যেন তার স্বাভাবিক শিক্ষকতার ধারায় ফিরে আসতে পারেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষিয়ান শিক্ষকরা, যেমন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌমিত জয়দ্বীপ ও তানভীর সোবহান। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কার্যকর নয়। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আগের দলীয় ও সন্ত্রাসী ছাত্রসংগঠনের মতোই এখন প্রশাসনের মধ্যে মেরুদণ্ড খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনি আরও বলেন, ‘এখন আবার মাস্তান ও মেরুদণ্ডহীন শিক্ষকদের সংযোগ দেখা যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য একেবারে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জুলাইয়ে যে অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তার ফলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সময় কিছু গোষ্ঠী ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী মতকে দমন করে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ইউএপির দুই শিক্ষককে লক্ষ্য করে লাগাতার আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গুগল ফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ নেওয়া হয়, যা পর্যাপ্ত আইনি প্রমাণ বা যাচাই-বাচাই ছাড়া ছিল। তদন্তের জন্য নির্ধারিত কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী অভিযোগের সত্যতা যাচাই করারও সময় দেওয়া হয়, কিন্তু এর আগেই শিক্ষক মোহসীন ও লায়েকা বশীরকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করা হয়। অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, এই অভিযোগ প্রক্রিয়া নিয়ে তারাই আইনি পরামর্শ নিয়েছেন এবং জানিয়ে দিয়েছেন, গুগল ফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ নেওয়ার পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ। বিস্তারিত প্রশ্নে, বোঝা গেছে যে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পূর্বেই শ্রমিকের মতো দ্রুত কর্মকাণ্ডে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যা ন্যায়সঙ্গত নয়। বিশেষ করে মোহসীনকে ‘আওয়ামী লীগ সমর্থক’ হিসেবে তালিকা করে চাকরিচ্যুত করাকে নৈতিক ও আইনি দিক থেকে অসংগত বলে মনে করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, দুই শিক্ষকের পুনর্বহালসহ, হত্যা, হয়রানি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কথায় কথায় চাকরিচ্যুতির ঝুঁকি আছে, সেখানে শিক্ষার স্বাধীনতা ও মৌলিক ধারণার সুরক্ষায় কার্যকর পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামাল চৌধুরী, কাজলি শেহেরীন ইসলাম, সামিও শীশ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্যামলী শীলসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরা। পাশাপাশি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, আইনজীবী মানজুর আল মাতিন, পরিবেশকর্মী আমিরুল রাজীব, অধিকারকর্মী ফেরদৌস আরা রুমী, স্থপতি ফারহানা শারমিন ইমু ও বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভপতি সীমা দত্ত প্রমুখ। SHARES সারাদেশ বিষয়: