ভারত ভিসা না দেওয়ায় বাংলাদেশের জন্যও ভিসা আধা-থমথম: নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২৬

নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ এম সাখাওয়াত হোসেন পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে দ্বিপাক্ষিক ভিসা জটিলতা ও দেশের সংস্কার প্রক্রিয়ার গুরুত্বের উপর আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত নানা কারণে ভিসা প্রদান সীমিত রাখায় বাংলাদেশ থেকে ভিসার সংখ্যাও কমলেও আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগির এই পরিস্থিতি উন্নতি হবে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, “ভারত বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিসা দিচ্ছে না। ফলে আমাদের থেকেও ভিসার ক্ষেত্রেও কঠিনতা হচ্ছে। তবে সব কিছু ঠিকঠাকভাবে চলতে থাকবে। নতুন সরকারের সময় ভিসার ডিউরেশন এবং প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারিত হবে।” তিনি আরও জানান যে, দেশের বিভিন্ন বন্দরে যাত্রী সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে গেছে, বিশেষ করে বেনাপোলসহ প্রধান সীমান্ত বন্দরগুলোতে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে, বিশেষ করে যদি বেসরকারি অপারেটরদের মেয়াদ শেষ হয়। এছাড়া আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে সরাসরি চীনে সড়ক পথে যোগাযোগের পরিকল্পনা বর্তমানে সম্ভব নয়। এ সফর দেশের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর পরিদর্শনের অংশ হিসাবে অনুষ্ঠিত, যেখানে ভবিষ্যতে এই বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতেও যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে পরবর্তী সরকারি কর্তৃপক্ষ সেই অনুযায়ী কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও দূরদর্শী মন্তব্য করেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, দেশের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে হলে বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে সফল করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “একটি সত্যিকার পরিবর্তন আনার জন্য ভোটে সিল মারতে হবে। না হলে, অতীতে যা হয়েছে, আমরা আবার ফিরে যাব। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বিনিয়োগ করতে হবে নিরলস।” তাঁর ভাষায়, “যদি ভোটে সিল না মারি, তাহলে আমাদের অর্জিত সুযোগগুলো হারিয়ে যাবে। কারণ এই পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না।” এই সফরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।