নির্বাচনে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহার হবে না, নিশ্চিত করলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার জন্য পুলিশের ভূমিকা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, লুট হওয়া অস্ত্রগুলো কখনো নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা হবে না এবং এ বিষয়ে সরকার কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজশাহী সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রগুলো যেন কোনোভাবে নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে ব্যবহার না হয়, সেই জন্য সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরো নিশ্চিত করে বলেন, এ ধরনের অস্ত্রগুলো ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। একইসঙ্গে, প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের চেষ্টার ব্যাপারে তিনি জানান, সীমান্তে কঠোর নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অস্ত্র আসার চেষ্টা থাকলেও তা সেনাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে উদ্ধার করছে। নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন, এই সময়ে পুলিশ সদস্যরা কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না এবং প্রার্থীদের কাছ থেকে খাবার-দাবারের কোন সুযোগ নেই। তিনি জানান, এ বছরে প্রায় দেড় লক্ষ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। যদি তারা নিজেদের পেশাদারিত্বের প্রতিফলন দিতে পারেন, তবে এটি হবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জঙ্গিবাদ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের জঙ্গি ও চরমপন্থি তৎপরতা অনেক কমে এসেছে এবং মূলত জঙ্গিবাদ এখন খুবই নিয়ন্ত্রণে। তবে তিনি সতর্কবার্তা দেন, কিছু ফ্যাসিস্ট জঙ্গি এখনও বিদেশে অবস্থান করছে, যাদের ফিরিয়ে এনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারদায় অনুষ্ঠিত এই বিশেষ কুচকাওয়াজে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম ও পুলিশ একাডেমির অতিরিক্ত আইজিপি তৌফিক মাহবুব চৌধুরীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জনসহ মোট ৯৬ প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এক বছরের কঠোর প্রশিক্ষণের পর, আজ তারা বাস্তব কাজে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত হলো। প্রশিক্ষণের সারাংশে অর্জিত কৃতিত্বের জন্য বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে সেরা প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ বছর তার মধ্যে সেরা হিসেবে নির্বাচিত হন সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, সেরা একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড পান সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী আরিফ, সেরা মাঠের কার্যক্রমে সহকারী পুলিশ সুপার সজীব হোসেন, সেরা ঘোড়সওয়ারিত্বে মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ ও সেরা শুটারে সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক। এই নবীন কর্মকর্তারা এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের প্রাকৃতিক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন, যা তাঁদের কার্যক্ষেত্রে আরও দক্ষ করে তুলবে। SHARES জাতীয় বিষয়: