বিনম্র শ্রদ্ধায় কমরেড অমল সেনের স্মরণ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

জমিদারি প্রথা ছিল কৃষক-শ্রমিক এবং মেহনতি মানুষদের জন্য অত্যাচার ও ক্ষতির প্রতীক। এই মানুষের কষ্টের কথাগুলো শুনে আমি নিজের খুব কষ্ট পেতাম। সেই কারণে আমি লোভ, লালসা এবং ভোগবিলাসের ঘর ত্যাগ করে কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের পক্ষের মানুষ হিসেবে দাঁড়াতে পেরেছি। এই বিশ্বাস ও আদর্শে আমি আজও জীবিত আছি, এবং সেই মানবিক মূল্যবোধের জন্য আমার মন শান্ত। কমরেড অমল সেনের এটাই ছিল মূল বাণী, যা তিনি শৈশব থেকেই তার জীবনে প্রচার করেছিলেন। এই মহান শিক্ষক ও সংগ্রামী ব্যক্তির ২৩তম মৃত্যুকালীন মুহূর্তে স্মরণ করেছে তারই হাতে গড়া সংগঠন ওয়ার্কার্স পার্টি।

শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিভক্ত অমল সেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগসহ বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মহান নেতা অমল সেনের ২৩তম প্রয়াণবার্ষিকী পালন করে। এই দিবসটি পালনের জন্য নেতার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় দ্বীপশিখা প্রজ্জ্বলন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

গত শুক্রবার বিকেলে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ নেতার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এরপর বাকড়ী বহুমুখি মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণসভা যেখানে সভাপতিত্ব করেন কৃঞ্চপদ বিশ্বাস। মূল বক্তা ছিলেন কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ। সভায় বক্তব্য দেন যশোর জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড তসলিমুর রহমান, শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড মোজাম্মেল হক, ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি গাজী নওশের আলী, সহকারী অধ্যাপক রমেশ চন্দ্র অধিকারী ও বাঘারপাড়া উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিথিকা বিশ্বাস।

অতিরিক্তভাবে, শনিবার নড়াইল জেলা শাখার আয়োজনে নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচির মধ্যে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজেরা খাতুনের মৃত্যুতে কর্মসূচির প্রসার কমানো হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অমল সেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি কৃঞ্চপদ বিশ্বাস। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহামুদুল হাসান মানিক। বক্তব্য দেন কমরেড নজরুল ইসলাম, মলয় নন্দীসহ আরও অনেকে। এ সব অনুষ্ঠান দ্বারা অমল সেনের আদর্শ ও কর্মযজ্ঞের স্মৃতি অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রত্যয় ব্যক্ত হয়।