রপ্তানি বাণিজ্য বিস্তার ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতে সক্ষমতা প্রদর্শন: ‘গ্যাপেক্সপো-২০২৬’ সম্পন্ন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিন অব্যাহত থাকার পরে আন্তর্জাতিক শিল্প মেলা ‘গার্মেন্টস অ্যাকসесরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো)-২০২৬’ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জমকালো সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। বিজিএপিএমইএ’র উদ্যোগে আয়োজিত এই বৃহৎ প্রদর্শনীতে ভারত, চীন, পাকিস্তান, জার্মানি সহ বিভিন্ন দেশের মোট ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান তার প্রযুক্তি, কাঁচামাল ও পণ্যসমূহ ১৫০০টি স্টলে প্রদর্শন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যিনি প্রধান অতিথি ছিলেন, এবং সভাপতিত্ব করেন বিজিএপিএমইএ’র সভাপতি মো. শাহরিয়ার। দেশের লক্ষাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে এই মেলা গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং চলমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের গুরুত্ব তুলে ধরেন অতিথিরা। আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের সবথেকে বড় রপ্তানি পণ্য হিসেবে পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গত অর্থবছরে ৭.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করেছিল। যদি সঠিক সুযোগ দেওয়া হয় তবে এই খাতও পোশাক শিল্পকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে এই খাতের সমস্যা সমাধানে কাজ করবো।” অন্যদিকে, বিজিএপিএমইএ’র সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, “দেশের প্রকৃত ব্যবসায়ীরা সততা ও নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করে। দুর্নীতিবাজ ও অর্থ পাচারকারীরা ব্যবসায়ীর চেহারা ধারণ করে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে, কিন্তু প্রকৃত ব্যবসায়ীরা এমন কাজ করেন না।” ব্যবসায়ী পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “আমাদের এই সেক্টরটি দেশের অন্যতম ‘আন্ডাররেটেড’ তবে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানির খাত। কাঁচামাল আমদানি করে উল্টো রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে, যা আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ। তবে গত একবছর এই খাতের ব্যবসা খারাপ অবস্থায় গেছে। আগামীতে একটি স্থিতিশীল ও উপযুক্ত সরকারের প্রয়োজন, যাতে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হয়।” দেশের শিল্পের বিকাশে নীতিমালার প্রভাব বিষয়ে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল উল্লেখ করেন, “‘আমরা এখন প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে কিছু নীতিগত বাধা আমাদের ব্যাহত করছে। ‘ফ্রি অফ কস্ট’ আমদানির সুবিধা বর্তমানেও রয়েছে, যেটি আমাদের জন্য হুমকি। সব গোলামির বাইরে গিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে।” এই আন্তর্জাতিক মেলার সমাপ্তির দিন, ৮টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ স্টল হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করে তাদেরকে বিশেষ স্বীকৃতি জানানো হয়।