বিএনপি বলেছে, গুম-খুনের শিকার পরিবারের পাশে থাকবে তারা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের পথে যাত্রা আবার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিভীষিকাময় দিন ও রাত শেষ হয়েছে। যারা স্বজন হারিয়েছেন, মা-বোনেরা তাঁদের স্বামী ও পিতাকে হারিয়েছেন—তাদের জন্য আমাদের কাছে বলতে কিছু নেই; তাদের ব্যথা হৃদয়ে লুকানো। তবে বিগত সরকারের সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে থাকছে বিএনপি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একটি সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই সভার আয়োজন করে বিএনপি “বিএনপি পরিবার ও মায়ের ডাক” নামে।

তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের জন্য এই দুঃখের সময় কাটিয়ে উঠতে হবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের জন্য কখনও আন্দোলন তুঙ্গে উঠেছে, কখনও স্তিমিত হয়েছে। এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা বছর বছর গুম, খুন এবং মিথ্যা মামলার যেনো পিছু ছাড়ছে না। তাদের ব্যর্থতা কিংবা নিপীড়নের কাছে কখনো তারা মাথানত করেনি। এক পরিবারের এক ভাই ঘুমিয়ে থাকলেও অন্য ভাই তার জয়গায় এসে আন্দোলন চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তারেক রহমান দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে বলেন, আমাদের বিশ্বাস, দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষ না করে অহিংসভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে সক্ষম। কেউ যদি অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপিকে দমন করার চেষ্টা করে, তারা সফল হবে না—এমন বিশ্বাস তার। তিনি যোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের নির্যাতনের শিকার অগণিত প্রিয় মুখ এখন আমাদের সামনে। আমরা তাদের আত্মত্যাগের কৌশল দৃঢ়ভাবে মনে রাখব এবং দেশের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্মাণের জন্য কঠোর olarak সচেতন থাকব।

তিনি আরও বলেন, যারা শহীদ হয়েছেন বা ঘুমিয়ে থাকেন, তাদের জন্য আগামী দিনে দেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে দায়িত্বশীল সরকার গঠনের জন্য দৃঢ়সংকল্প আছে আমাদের। তিনি জানাচ্ছেন, নির্বাচনের সময়ে নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকা ও অবস্থানের পরও আমরা ধৈর্য্য ধারণ করব।

রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রপ্রিয় প্রত্যেক মানুষের জন্য মানুষের দায়িত্ব হলো মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা যারা করছে, তাদের সফল হতে দেব না। সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, দেশের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক সরকারই একমাত্র পথ। শহীদ পরিবারের ত্যাগের কথা স্মরণ করে সবাইকে ধৈর্য্য ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামতে না পারে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ অনেক নেতাকর্মী।