এলপিজি সংকট: দ্বিগুণ দামেও মিলছে না সিলিন্ডার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

ঢাকাসহ সারাদেশে গ্যাসের স্বল্পচাপে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের অপ্রতুলতা থাকায় রান্না ঘরে অগ্নি জ্বলছে না। কোথাও কোথাও অল্প আঁচে টিমটিম করে জ্বললেও রান্নার সময় অনেক বেশি লেগে যাচ্ছে। এই জটিলতার মধ্যেই মানুষ বিকল্প হিসেবে এলপিজির দিকে ঝুঁকছেন, তবে সেটা নিয়েও চলছে অরাজকতা। বাজারে এলপিজির সিন্ডিকেট কব্জা করে রেখেছে, দ্বিগুণ দামেও ভোক্তার জন্য সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, ২০২৩ সালে এলপিজি আমদানি ছিল প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন, ২০২৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে আমদানি বেশিরভাগ সময় কমে গেছে। গত বছরও আমদানি ছিল ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন, যা আরেকটু বেড়ে যাওয়ার পরিবর্তে ১০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে বছরের শেষে যখন অল্প মজুত থাকার কথা ছিল, তখন তা বিক্রি হয়ে গেছে, এরপরও বাজারের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় সংকট চলমান।

বিইআরসির সূত্র জানায়, দেশে এলপিজির ব্যবসার জন্য লাইসেন্স নিয়েছে ৫২টি কোম্পানি। এগুলোর মধ্যে ৩২টি কোম্পানি নিজস্ব প্ল্যান্টে সিলিন্ডার ভরার অনুমোদন পেয়েছে, এবং ২৩টি কোম্পানের আমদানি করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে বছরজুড়ে আমদানি পরিচালিত হয়েছে মাত্র কিছু মাসে, যার কারণে অনেক কোম্পানি আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে।

বিইআরসির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এই সংকট আরও আগে বুঝা উচিত ছিল। সকল তথ্য সরকারের নজরে থাকলেও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ফলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলছেন, যদি তখনই আমদানির অনুমোদন দেওয়া হতো, তাহলে আজকের এই সংকট এতো বড় হত না।

সরকার ইতোমধ্যে এলপিজি আমদানির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। ঋণপত্র খোলার জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং আমদানির অনুমতিও বাড়ানো হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা দ্রুত আমদানির কাজ শুরু করছেন। আশা করা যাচ্ছে, এতে সরবরাহের এই সংকট কিছুটা কমে আসবে।

এলপিজি বাজারের বর্তমান সংকট মূলত সরবরাহের অভাবের কারণেই বলে মনে করছেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, গত নভেম্বর পর্যন্ত ১৭০টি জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছিল, এরপর ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ২৯টি জাহাজ নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। ইরান থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় এ এক বড় সমস্যা। চীনসহ বড় ক্রেতারাও এখন বৈশ্বিক মার্কেট থেকে এলপিজি সংগ্রহ করছে, যার কারণে দাম আরও বাড়ছে এবং ক্রয় কঠিন হয়ে পড়েছে।

একই সঙ্গে, এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক অভিযোগ করেছেন যে, সরকারের ফ্যাসিলিটেটররাও এই সংকটের জন্য দায়ী। তিনি বলেন, তাঁদের পাঁচ সদস্যের কোম্পানি এক বছর আগে আমদানির অনুমোদনের জন্য আবেদন করলেও নীতিমালা না থাকায় নীতিগত অনুমোদন পাননি। এরপর আবার গত আগস্টে নতুন চিঠি দেয়ার পরও অনুমোদন মিলেনি।

দোকানদাররা জানিয়েছেন, পরিবেশকেরা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার দিচ্ছে না। সাধারণত দিনে যে সিলিন্ডার আসে, তা ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়।

এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। এখনও শতকরা ৭০ শতাংশ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। তবে শিগগিরই কিছুটা সরবরাহ বাড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।