ফেলানীর ভাই হিসেবে বিজিবিতে সৈনিক হিসেবে শপথ নিলেন মো. আরফান হোসেন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন বিজিবি’র সিপাহি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাহিনীতে যোগদান করেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিজিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে আরফান হোসেন শপথ নিয়েছেন এবং এখন থেকে তিনি দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন একজন গর্বিত বিজিবি সদস্য হিসেবে।

শপথ গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আরফান। তিনি দেশের মাতৃভূমির সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। আরফান বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমার বোনকে যে সীমান্তে হত্যা করা হয়েছে, আজ আমি সেই সীমান্তের রক্ষী। সীমান্তে দায়িত্বরত অবস্থায় আমি চাই না যে, আমার বোনের মতো কেউ আর মা-বাবার সন্তান এভাবে হারাক। আমি শপথ করছি, যদি প্রয়োজন হয় তবে নিজের জীবন দিয়ে হলেও সীমান্ত রক্ষা করব এবং এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সচেতন থাকব।”

এর আগে, গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাটের ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে আরফান হোসেনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মেহেদী ইমাম। এই সময় তার বাবা মো. নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার ছেলে নিজের যোগ্যতায় এই চাকরি পেয়েছে, এর জন্য সকলের দোয়া দরকার ছিল। আমি বিশ্বাস করি, আরফান সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ করবেন। এই দেশের জন্য তার অক্লান্ত পরিশ্রমে আমার ফেলানীর আত্মা শান্তি পাব।”

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান ফেলানী। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকা অবস্থায় দেখা যায়, যা দেশের ও আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ফেলানীর পরিবার এখনও নয়াযুক্ত বিচারের জন্য অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছে। তবে ছোট ভাই আরফানের বিজিবিতে যোগদান শোকাবহ পরিবারের মধ্যে কিছুটা হলেও শান্তি ও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নিয়োগপত্র হস্তান্তরকালে বিজিবি কর্মকর্তা আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা সর্বদা ফেলানীর পরিবারের পাশে থাকবেন।