রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণের নতুন আইন: অবৈধ দখলে জেল ও জরিমানার ঘোষণা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬

বাংলাদেশের হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় নতুন দিশা দেখাবে। বুধবার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মাধ্যমে এই অধ্যাদেশটি প্রকাশিত হয়। এই আইনে অবৈধ দখল, ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা প্রকৃতির ক্ষতি রোধে একটি কঠোর বার্তা। অধিকন্তু, দেশের বিভিন্ন হাওর ও জলাভূমির জন্য একটি সরকারি তালিকা তৈরি করে তা জেলা প্রশাসকদের তথ্যের ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে। এই তালিকা কখনো প্রয়োজন হলে সংশোধন বা হালনাগাদ করা হবে। অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাওর ও জলাভূমির সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে, যা বাস্তবায়নের জন্য হাওর ও জলাভূমি পরিচালনা অধিদপ্তর কাজ করবে। সরকার চাইলে কোনো এলাকাকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে, যেখানে যদি নিষেধাজ্ঞা মানা হয়, তবে দুই বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হবে। কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে সেই প্রকল্পের সংক্রান্ত অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক। না নিতে পারলে, সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। পরিবেশ রক্ষায় কাজ করলে, যেমন অবৈধ দখল, ভরাট,অননুমোদিত খনন বা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলে, সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন বা দূষণ করলে একই রকম শাস্তি প্রযোজ্য হবে। পানির অপদূষণ বা জলজ প্রজাতির ক্ষতি হলে দুই বছরের জেল বা দুটি লাখ টাকা জরিমানা হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে নিষিদ্ধ জাল, বিষটোপ বা বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরা বা প্রজনন বাধাগ্রস্ত করলে দুই বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বসবে। মাছের প্রজনন বা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বাধা দিলে এক বছরের জেল বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এরপর, পাখি ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণের জন্যও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাখি শিকার, সংরক্ষিত জলজ প্রাণী হত্যা বা জীববৈচিত্র্য বিনাশের জন্য দুই বছরের জেল বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি হাওর ও জলভূমির বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে অধিদপ্তর মহাপরিচালক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা পরিশোধের আদেশ দিতে পারবেন, পাশাপাশি সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ জারি করতে পারবেন, যা অবাধে মানতে বাধ্য। এই আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলাভূমির টেকসই রক্ষা ও সংরক্ষণে এক ইতিহাসপূর্ণ ধাপ নেওয়া হলো, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি দেশের জীববৈচিত্র্য ও পানির উৎসগুলো আরও সুস্থ ও নিরাপদ করে তুলবে।