প্রধান উপদেষ্টা তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছেন

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

যুবসমাজের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিবর্তন ও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন, উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে সার্কের পুনরুজ্জীবনের ওপর জোর দিতে হবে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ‘দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলনের (সার্চে-২০২৬) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ঢাকায় উচ্চশিক্ষাবিদদের একত্র হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর গত কয়েক মাসে যা ঘটেছে—তার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা এই সম্মেলনের বড় সুযোগ করে দিয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে শিক্ষার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

এছাড়াও, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা।

শিক্ষার্থীদের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই তরুণদের নিজস্ব চিন্তা ও মনন রয়েছে। তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কণ্ঠ মিলিয়েছে এবং জীবন উৎসর্গ করেছে। শহীদ স্কুলছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের মায়ের কাছে লেখা চিঠির কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, দেশপ্রেম ও দায়বদ্ধতার জন্যই এই তরুণরা রাজপথে নামতে দ্বিধা করে নি।

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, এই ঘটনা একেবারে আকস্মিক নয়। শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও এরকম ঘটনা ঘটেছে, তবে ঢাকায় তার আকার ও ব্যাপকতা বেশি ছিল। তিনি সম্মেলনের জন্য বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার such উদ্যোগের মধ্য দিয়েই সার্কের মূল লক্ষ্য ছিল পারস্পরিক বিনিময় ও শেখার সুযোগ সৃষ্টি। দুঃখজনকভাবে, আজকাল এই সংগঠনটির গুরুত্ব অনেকটাই কমে আসছে।

তিনি বলেন, সার্কের মূল ধারণাই ছিল পারস্পরিক যোগাযোগ ও শেখার ব্যাপারগুলো। তিনি নিজ উদ্যোগে সার্কের পুনরুজ্জীবনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এবং এ দাবি পুনরায় তুলে ধরবেন।

অধ্যাপক ইউনূস সম্প্রতি ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান দেশের পুরানো কাঠামো ভেঙে ফেলেছে। তরুণরা নিজেদের গণসনদ তৈরি করেছে এবং মনে করে, দেশের মূল সমস্যার সমাধান সংবিধানে নিহিত। তাই ভবিষ্যতের জন্য নতুন সংবিধান নির্ধারণে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, তিনি প্রশ্ন করেছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য কীভাবে কাজে লাগছে, যা সাধারণত ক্লাসে বলা হয় না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তরুণরা ইতিমধ্যে নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলছে এবং ভবিষ্যতে সংসদে নির্বাচিত হতে পারে এমন সম্ভাবনাও উপস্থিত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত চাকরির জন্য মানসম্পন্ন মানুষ তৈরি করে, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ জন্মগতভাবে সৃজনশীল। সেই সৃজনশীলতা মানব সভ্যতার মূল শক্তি, যা চাকরির দাসে পরিণত করে না। তিনি বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত তরুণদের উদ্যোক্তা ও পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা, চাকরিপ্রার্থী নয়। কারণ, কল্পনা বা ভাবনার শক্তিই মানুষকে নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখাতে সহায়তা করে।

আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির চেয়ারমেডেকর ড. এস এম এ ফায়েজ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান। এছাড়াও, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন ও বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।