নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য, গুজব এবং বিভ্রান্তির মোকাবিলায় সহায়তার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করে এই অনুরোধ জানান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা রক্ষায় এ ধরনের ভুল তথ্য ও গুজব নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 

অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ সূত্রের পাশাপাশি বিদেশি গণমাধ্যম থেকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এর জবাবে ভলকার তুর্ক জানান, বিষয়টি তিনি আগেই লক্ষ্য করেছেন এবং এত বিশাল আকারের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়া দেশটির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আশ্বাস দেন যে, এই সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। তিনি আরও বলেন, ভুয়া তথ্য রোধে তার সংস্থা বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। 

আলাপের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে আসন্ন নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, গুমের ঘটনা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। ভলকার তুর্ক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের স্বার্থে একটি “বাস্তব অর্থে স্বাধীন” জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের ওপর জোর দেন। ড. ইউনূস তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইতিমধ্যে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঠিক আগে তার পুনর্গঠন সম্পন্ন করা হবে। সরকারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার বিষয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। 

আরও আলোচনা হয় গুম-সংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়েও। প্রধান উপদেষ্টা জানান, তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর ওপর তৈরি কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভলকার তুর্ক তাদের মূল উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও গুম-সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রমে সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ।