বিগত ১০ প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে ১২ হাজার কোটি টাকা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২৬

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বড় দশ প্রকল্পে অর্থের বরাদ্দ হ্রাস করা হচ্ছে। এই বিশাল প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলো থেকে মোট ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি কমানো হচ্ছে। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কোনো বরাদ্দ হ্রাস হয়নি। অন্যদিকে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বরাদ্দ এই বছর বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া, অন্য বেশ কিছু প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন গতির আশা মানুষ করেননি। এই বরাদ্দ হ্রাসের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে প্রকল্পের বাস্তবায়নের অপ্রতুল গতি এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতির অবনতি।

স্বরাষ্ট্রপুত্রের তালিকায় রয়েছে মেট্রোরেল (এমআরটি-৬, এমআরটি-১ ও এমআরটি-৫ উত্তরাংশ), সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেন রাস্তা, ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়ক, মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের বিআরটি প্রকল্প।

আজ (১২ জানুয়ারি) আন্তঃমন্ত্রliest সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদনের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথমদিকে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বছর শেষে প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে সমস্যা দেখা দেয় বলে এই অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সরকারের আয়ের পরিস্থিতি খারাপ থাকায় এই কাটছাঁটের প্রয়োজন হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এমআরটি-১ প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮৬৩১ কোটি টাকা, যা এখন ৮০১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে, অর্থাৎ প্রায় ৯১ শতাংশ কমানো হয়েছে। একইভাবে, মেট্রোরেল-৫ এর জন্য বরাদ্দ ১৪৯০ কোটি থেকে কমিয়ে ৫৯২ কোটি করা হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৫৯ শতাংশ কাটছাঁট হচ্ছে।

মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ এই বছরে ৪০০৮ কোটি থেকে কমে ১০৮৫ কোটি, অর্থাৎ ৭৩ শতাংশ কেটে নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে, ঢাকা-সিলেট সড়ক প্রকল্পে ৫৫ কোটি টাকা কমে ১৬৬৮ কোটি হিসেবে নির্দিষ্ট হয়েছে।

শেখানো হচ্ছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ হ্রাস করা হয়নি, কারণ এটি দেশের অন্যতম বড় প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য মোট ১০ হাজার ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর পাশাপাশি, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে সংশোধিত এডিপিতে মোট ৪০০৪৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে।

সর্বমোটভাবে, চলতি অর্থবছরের এডিপি থেকে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ কাটা, প্রকল্পের কাজে ধীরগতি ও বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তার কারণে হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, এবারের অনুমোদিত প্রকল্পের আকার ২ লাখ কোটি টাকা করতে পরিকল্পনা হচ্ছে, যেখানে মূল এডিপির বরাদ্দ ১ লক্ষ ২৮ হাজার কোটি টাকা প্রত্যাশিত।

আরও জানা গেছে, গত বছর মোট ৪৯ হাজার কোটি টাকা বেশি কাটছাঁট করা হয়েছিল। এর মধ্যে সংশোধিত এডিপির মোট আকার ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ করে বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের শ্লথগতি, অর্থের অপব্যবহার ও কার্যকর নিদের্শনা ও তদারকির অভাবের কারণে এ ধরণের কাটছাঁট জরুরি হতে পারে, তবে এটি বেশ কিছু বাস্তবিক সমস্যা ও প্রতিকূলতা সৃষ্টি করছে।