মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রস্থান: বাংলাদেশের জলবায়ু ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের突然 ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি বড় ধরণের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা জাতিসংঘের মোট ৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিবে। এই তালিকায় রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং নারীদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, যেমন ইউএনএফসিসি ও আইপিসিসি। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইউনেস্কো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তিও ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন সংকুচিত হয়ে পড়বে বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে বাংলাদেশে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, সহায়তা ও গবেষণা কার্যক্রমে এই নেতিবাচক পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে আইপিসিসির মতো বিশ্বাসযোগ্য গবেষণা সংস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিচ্ছিন্নতা বড় স্বল্পতা সৃষ্টি করবে। হোয়াইট হাউজ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে যে, এসব সংস্থা আমেরিকানদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের কিছু এজেন্ডা এড়িয়ে চলছে। কিন্তু বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি এক অপ্রত্যাশিত অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, যেখানে তারা আগের মতো উন্নয়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পেয়ে আসছে। এই অর্থ মূলত খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ব্যয় করা হতো। তবে ইউএসএআইডির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গা সহায়তা ছাড়া অন্যান্য খাতে মার্কিন অর্থায়ন দৃশ্যমানভাবে কমে এসেছে। এখন এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের চলমান ও ভবিষ্যত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও সংস্থা দুর্বল হলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও মানবিক উদ্যোগের কৌশল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, এই সিদ্ধান্তের প্রতীকী মূল্য অনেক বেশি। যখন যুক্তরাষ্ট্র অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, তখন অন্য ধনী দেশগুলোও সহায়তা কমানোর দিকে ঝুঁকবে, ফলে বৈশ্বিক সহযোগিতা ব্যবস্থায় বিভাজন বাড়বে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা এই পরিস্থিতিতে বিকল্প ফান্ড খুঁজে বের করার এবং নতুন কূটনৈতিক কৌশল প্রণয়নের চিন্তা করছে। মূলত, এই একটি অংশগ্রহণমূলক ও সহযোগিতার বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রত্যাহার উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রযাত্রায় বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।