প্রধান শুটারসহ মুছাব্বির খুনের ঘটনায় তিনজন গ্রেপ্তার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২৬

ঢাকা মহানগরী ঢাকার কারওয়ান বাজারের তেজতুরী বাজারের পেছনের গলিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা ব্রাশ ফায়ার চালায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং কিছুক্ষণ পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বৃহস্পতিবার রাতে অভিযানে বড় ধরনের সফলতা অর্জন করেছে। অভিযানের অংশ হিসেবে তারা মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ও পরিকল্পনাকারীসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ডিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের মধ্যে শুটার হিসেবে চিহ্নিত জিনাত ও প্রধান পরিকল্পনাকারী বিল্লাল রয়েছেন। গ্রেপ্তার তৃতীয় ব্যক্তিটি এই দুজনের সহযোগী বলে প্রথমিক তদন্তে জানা গেছে।

গোয়েন্দাদের মতে, হত্যাকাণ্ডের পরে আসামিরা এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিল। প্রযুক্তিগত সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে বিভিন্ন জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এই সফলতার ফলে হত্যা মূল কারণ, শত্রুতা বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণ ও সরবরাহকারীদের সম্পর্কে অধিকতর তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ডের জন্য পরিকল্পনা করে ছিল। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য রিমান্ডের আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার দিন অর্থাৎ বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে, কারওয়ান বাজারের তেজতুরী বাজারের পেছনে অবস্থিত স্টার হোটেলের পেছনের গলিতে অস্ত্রের মুখে একদল সন্ত্রাসী মুহুর্তেই গুলিবর্ষণ করে। এতে আহত হন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির, যিনি পরে হাসপাতালে মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের সংবাদে পুরো রাজধানীতে আতঙ্কে মাধ্যম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং ঘটনাস্থল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বর্তমানে তদন্ত চলাকালীন সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।