বাংলাদেশ-জার্মানি একত্রে ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

বাংলাদেশ ও জার্মান সরকারের মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার এক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে জার্মানির জিআইজেড (GIZ) প্রস্তাবিত পাঁচটি প্রকল্পের জন্য মোট ২১.৭৭ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পগুলো দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন দিককে সমৃদ্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রথম প্রকল্পটি হলো পলিসি অ্যাডভাইজারি ফর প্রোমোটিং এনার্জি ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি (পিএপি) ২, যা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত হবে। এটি ২০২৫ সালে আগস্ট থেকে ২০২৯ সালের জুলাই পর্যন্ত চলবে এবং জার্মানির পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের জন্য ৯ মিলিয়ন ইউরোর অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব এবং ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করা, যার মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি Sustainable Energy Policy গঠনে সহায়তা পৌঁছাবে।

দ্বিতীয় প্রকল্পটি হলো ইন্টিগ্রেট, যা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৩ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলবে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এবং নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করে তোলাই প্রধান লক্ষ্য। এই প্রকল্পের জন্য জার্মানির পক্ষ থেকে ৪.৮০ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেওয়া হবে।

তৃতীয় প্রকল্পটি হলো প্রফেশনাল এডুকেশন ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সেফটি (পিআরইসিআইএসই)। এটি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে ২০২৫ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হবে এবং জার্মানির থেকে ৭ মিলিয়ন ইউরোর বরাদ্দ রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে টিভিইটি (টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ইমপ্লয়মেন্ট ও ট্রেনিং) খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

চতুর্থ প্রকল্পটি জিআরএসিই বা গ্লোবাল রুম এয়ার কন্ডিশনিং মার্কেটের প্রসারে কেন্দ্র করে, যা পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। এর জন্য ০.৮ মিলিয়ন ইউরো অনুদান অনুমোদন পেয়েছে, যা জলবায়ু বান্ধব এয়ার কন্ডিশনিং প্রযুক্তির বিকাশ ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পঞ্চম প্রকল্প ডিএস২এস (ডিজিটাল স্কিলস টু সাকসিড ইন এশিয়া), যেখানে অতিরিক্ত ০.১৭৫২১২ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি আঞ্চলিক পর্যায়ে চলবে, যার মাধ্যমে শিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। এটি মূলত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন এবং ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলবে।

জার্মান সরকার বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ বিলিয়নের বেশি ইউরোসহায়তা ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। বর্তমানে জিআইজেড বাংলাদেশে ১৮টি প্রকল্পে ১০০.৭২ মিলিয়ন ইউরো অনুদান বিতরণ করছে, যা বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহায়ক।