নির্বাচন কমিশনের দাবি মোতাবেক ডিসি বদলের জন্য প্রস্তুত সরকার: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে কোনো পরিবর্তন বা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বদলের জরুরি প্রয়োজন পড়লে সরকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ এই বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের যে কোনও সিদ্ধান্ত বা মতামত সরকারের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার যতটা সম্ভব ইসির প্রত্যেকটি অনুরোধকে সম্মান করবে। যদি কমিশন মনে করে যে মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ডিসি বদলানো অপরিহার্য, তবে সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।

সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের ডিসিদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলার পর তাদের বদলের দাবিও জানিয়েছে। শুধুমাত্র এক মাসের মধ্যে নির্বাচনের সময় এই ধরনের বদলি সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নে সাংবাদিকদের প্রতি মন্ত্রী বলেন, সরকার নিজ থেকে কোনো বদলি নিয়ে আলোচনা করছে না। তবে, যদি নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলো পরীক্ষালোচনা করে এবং মনে করে যে বদলি অপরিহার্য, তাহলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো পরিবর্তনের আগে কমিশনকে অবশ্যই বিষয়টির যৌক্তিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

মাঠ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো বড় ধরনের বিচ্যুতি বা অস্বাভাবিকতা দেখেননি। তাঁর মতে, নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং সব পক্ষ সন্তুষ্ট থাকা সম্ভব নয়। প্রতিটি প্রার্থী ও পরিস্থিতি আলাদা, ফলে সিদ্ধান্তে ভিন্নতা দেখা যেতে পারে। তবে, যদি কেউ সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষুব্ধ হয়, তাহলে তাঁদের আইনি পথে আপিলের সুযোগ রয়েছে এবং বর্তমানে শত শত প্রার্থী সেই সুযোগটি ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করছেন।

প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে সচিব বলেন, বর্তমান যুগে উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহের কারণে কেউ যে কোনও বিষয়ে অভিযোগ করতে পারেন। তবে, প্রশাসন কোনও নির্দিষ্ট পক্ষের পক্ষে কাজ করছে বলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তার নজরে আসেনি। তিনি আশ্বাস দেন, যদি সত্যিই কোনও ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা দেখা যায়, তবে তা যোগ্য এবং মেধা ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। মূল লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকারের সকল বিভাগই নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এইসব বিষয় তিনি তার বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।