৩৩ বিলিয়নের ঘরে রিজার্ভ, তিন বছরে সর্বোচ্চ

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত তিন বছরে সবচেয়ে বেশি। ব্যাংক থেকে ডলার কেনার ফলে এই রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং ২০২১ সালে তা পৌঁছেছিল ৪৮ বিলিয়নের কাছাকাছি। তবে এ সময় রিজার্ভ পতনের কারণে এটি ২৬ বিলিয়নে নেমে এসেছিল।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ২৯ দিনের মধ্যে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে মোট ৩ বিলিয়ন ডলার, যা ডলারসংকট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সময়ে প্রবাসী আয়ে এসেছে ৩০৪ কোটি ডলার, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সঙ্কেত। গত বছর আগস্টের পর থেকে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে মার্চ মাসে রেকর্ড হয় ৩২৯ কোটি ডলার প্রবেশ, যা এখন পর্যন্ত একক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এর পর থেকে আবারো মাসে ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটি ছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার। এ সব প্রাপ্তিসমূহের ফলে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ বাড়িয়ে চলেছে। এর সাথে বিদেশি ঋণও আসছে, যার ফলে রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মঙ্গলবার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এখন ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার। গত মঙ্গলবার ব্যাংক সাতটি ব্যাংক থেকে মোট ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার নিলামে কিনেছে, যেখানে প্রতি ডলার দাম ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এইভাবে, প্রথম ছয় মাসে মোট ৩১৩ কোটি ডলার বা তিন ডলারে বেশি ডলার কেনা হয়েছে। বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে এককভাবে এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে কেনাকাটা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে রিজার্ভ ৩৪ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। এটি আন্তর্জাতিক ঋণ বা অন্য কোনও সংস্থার সাহায্য নয়, বরং নিজেদের আয়ের মাধ্যমে ডলার সংগ্রহ করে রিজার্ভ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ এখনই উপযুক্ত এবং ভবিষ্যতেও দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।’