রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় এলো খালেদা জিয়ার, শোকের মহোৎসব চলছে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২৬

বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মৃত্যুবরণ করেছেন গত মঙ্গলবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে। বয়ổ ৭৯ বছর বয়সে তিনি ফুসফুসের সংক্রমণ এবং বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি ৩৭ দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সামাজিক অঙ্গনে শোকের অন্ধকার নেমে এসেছে।

আজ বৃহস্পতিবার, তাঁর মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বিতীয় দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এই তিনদিনের শোক কার্যক্রম আগামীকাল শুক্রবার শেষ হবে। শোকের অংশ হিসেবে, দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও একইভাবে পতাকা অর্ধনমিত করে শোক প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, রাজনৈতিক নেতারা এবং সাধারণ মানুষ—সবার মনোভাব একটাই, গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানানো।

শোকার মধ্যে পূর্ণ মর্যাদায় দেশপ্রেমের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয় শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে, তাঁর স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে। জানাজা শেষে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তাঁকে শেষ বিদায় দেওয়া হয়। এই অগ্নিকন্যার মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে গভীর শোকের ছায়া পড়ে গেছে।

সুপ্রিম কোর্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও তাঁর জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়। আগামীকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর দেশের সব মসজিদে এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও তাঁর মর্যাদা ও আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সময় নানা শারীরিক সমস্যা মোকাবিলা করে তিনি গত মঙ্গলবার মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রাথমিকভাবে শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এই শোকের বাতাসে সবার মনোভাব একটাই—দেশের অগ্রগতি ও গণতন্ত্রের স্বকীয়তায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিকে ধারণ করে তিন দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় শোক পালনের আয়োজন করা হয়। দেশের জন্য তাঁর অবদান ও ন্যায়ের সংগ্রামে তিনি ছিল এক অবিচলতম নেত্রী। আজকের এই শোক এবং শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে মানুষ গভীর আবেগের সাথে তাঁর জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে যাচ্ছে।