ট্রাম্পের ঘোষণা: ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা পুরোপুরিই বন্ধ করার আহ্বান Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার আকাশসীমাকে ‘সম্পূর্ণরূপে বন্ধ’ করে দিতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন সকল এয়ারলাইনস, পাইলট, মাদক কারবারি এবং মানব পাচারকারীদের ওপর বাধা সৃষ্টি করে আকাশপথগুলো বন্ধ করা হয়। ট্রাম্পের এই ঘোষণা মূলত বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার উপর ভিত্তি করে এসেছে। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প এক পোস্টে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার উপরে এবং আশপাশের সকল আকাশপথে যেন ফেরত আসে বন্ধের সিদ্ধান্ত।’ তবে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা নির্দেশনা তিনি দেননি। এই ঘোষণা প্রশংসা করেছে কিছু এবং বিপক্ষে পড়েছে অন্যরা। কারাকাস এই সতর্কবার্তাকে ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং এটি ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ ও অযৌক্তিক আক্রমণ বলেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ বাড়াতে ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরীসহ ব্যাপক সামরিক মোতায়েন করেছে। মূল দাবি, এই সামরিক শক্তি মাদকের পাচার রোধে ব্যবহার হবে; কিন্তু কারাকাস বলে, এটি মূলত মাদুরো সরকারকে উৎখাতের জন্য আঘাত চালানোর একটা চক্রান্ত। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই ধরনের কঠোর নীতির কারণেই পরিস্থিতি আরও অস্থির হতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ২০টির বেশি ‘মাদকবাহী’ নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে ৮৩ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তবে এসব নৌযান মাদক বা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে নিশ্চতভাবে প্রমাণ দেখাতে পারেনি মার্কিন প্রশাসন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলার মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকতে পারে। এছাড়াও, ট্রাম্প এই সপ্তাহের শুরুতেই ঘোষণা করেছেন, ‘স্থলপথে’ ভেনেজুয়েলার মাদক পাচার বন্ধ করতে খুব শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিবেশী দেশ ডোমিনিকান রিপাবলিক ও ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। ডোমিনিকান রিপাবলিক বিমানবন্দর ব্যবহার এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে মার্কিন মেরিন কোরের মহড়া চলমান। গত সপ্তাহে মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় চলাচলকারী সরঞ্জামগুলোকে সতর্ক করার নির্দেশ দেয়। এভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কড়া পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: