দেশে বিরাজনীতিকরণের জন্য নতুন ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ সক্রিয়: মির্জা আব্বাস Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৫ বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির পলিটেকের পর বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবেই রাজনৈতিক শূন্য করে দিতে দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিক মহলের প্ররোচনায় নতুন একটি ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই পরিকল্পনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ করার জন্য এক ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র। এক সাক্ষাৎকারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আব্বাস বলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, খাগড়াছড়ির সাজেক এবং নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে কেন্দ্র করে অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু মহল দেশের শান্তি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে এক গুরুতর চালাক চালের পরিকল্পনা করছে। তিনি দুর্ভাবনা প্রকাশ করে বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিভিন্ন অজুহাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নানা চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। আব্বাস আরও বলেন, এক বিশেষজ্ঞের ঘোষণা অনুযায়ী, যদি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন সংসদে না হয়, তাহলে দেশের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন নতুন ধরনের ‘মাইনাস-টু ফর্মুলা’ চালু হয়েছে, যা ১/১১ সময়কার সেই পুরোনো পরিকল্পনার মতোই। প্রথমে এটি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছিল, আর এখন দেশের বাইরের ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন রূপে একই চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, এই অপচেষ্টা অংশ হিসেবে কিছু গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে বিএনপিকে ‘অবিশ্বাস্য’ ও ‘অপ্রিয়’ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। আব্বাস অভিযোগ করেন, এখনও কিছু আওয়ামীপন্থি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কিছু রাজনৈতিক ও আদর্শিক গোষ্ঠী বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দেশের বাইরে থাকাকালীন সময়টায় বিএনপিকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা নিজেদের হাতের মধ্যে নেয়া। তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারাই আবার নতুন করে এই ‘মাইনাস-টু’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে লিপ্ত। ১/১১ এর সময়ের মতোই এখন ভিন্ন আঙ্গিক হাতে পরিকল্পনা চলছে। এর পেছনের মূল লক্ষ্য হলো বিএনপিকে দুর্বল বা সরিয়ে দিয়ে দেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে দেশি-বিদেশি সকল ধরনের মস্তিষ্কের যোগসূত্র রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আব্বাস আরও অভিযোগ করেন, অনেক আওয়ামী সমর্থক আমলা ও কিছু ধরণের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, কারণ তারা বিশ্বাস করেছেন বিএনপিকে রাজনীতি থেকে সরালে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল সহজ হবে। তারা মনে করছে, বিএনপিকে দুর্বল করে ফেললে তাদের পক্ষে দেশ পরিচালনা সহজ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এমনকী কিছু রাজনৈতিক দলও এই একই ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে পড়েছে, যা একসময় আওয়ামী লীগ চালু করেছিল। বিএনপি নেতা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন ইসলামী দলসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক শক্তি বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরেছে, যাতে করে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পথ রুদ্ধ হয়। একটি দল দাবি করছে, তার দাবি না মানা পর্যন্ত তারা কোনও নির্বাচন হতে দেবে না, তারা যেন গণতন্ত্রের বাইরে গেলে চলবে না — যা ফ্যাসিবাদী আচরণের মতোই। আব্বাস বিষদে বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন তিনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি, নিজের মাটিকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নয়। তাঁর মতে, নতুন ‘মাইনাস-টু’ কৌশল ও সেন্ট মার্টিন, সাজেক ও নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালের বিষয়গুলো আসলে এক জটিল পরিকল্পনার অংশ, যা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে। এছাড়া, তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন। বিএনপির জনপ্রিয়তা বেশ উচ্চ, এজন্য কিছু মহল প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তবে, তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণ বিএনপিকে ভালোবাসে এবং মিথ্যা অপপ্রচারণা তাদের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ণ করতে পারবে না। আব্বাস জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যক্তিদের সরিয়ে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে নির্বাচন প্রস্তুত ও ফেব্রুয়ারি মাসে ভোটের জন্য খুবই প্রত্যাশী। নির্বাচন আদৌ কি হবে এবং কোনো জোটের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আব্বাস বলেন, নির্ধারিত এফসির পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন বানচাল করতে চেস্টা করছে, যা ব্যর্থ হলে দেশের জন্য বিপর্যয় আসবে। বিশ্বাসের সাথে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ ইউনূসের ফেব্রুয়ারি ভোটের ঘোষণায় যথাযথ আশাবাদী। আর খালেদা জিয়া নির্বাচন করবেন কি না, এ সিদ্ধান্ত তার শারীরিক পরিস্থিতি ও ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেন। যদি তিনি নির্বাচনে অংশ নেন, তবে ভবিষ্যৎই নির্ধারিত করবে তার ভূমিকা। শেষে, তিনি বলেন, সরকারের জোট গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই, কারণ দেশের জনগণ ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক মুসলিম, তারা সাম্প্রদায়িকতা নয়, বরং মধ্যপন্থি ও গণতান্ত্রিক দলকেই পছন্দ করে। SHARES রাজনীতি বিষয়: