এক মাসের আয়ে চলবে ৪৭ মাসের খরচ: ফিফার নতুন যুক্তি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের অস্বাভাবিক উচ্চ মূল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতির কারণে টিকিটের দাম সাধারণ দর্শকদের পক্ষে বহন সম্ভব হয়নি, যা অনেককেই পরিস্থিতির লজ্জাজনক ও বিলাশীবিলাশি বলে মনে করছেন। তবে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো এই ক্ষোভকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না, বরং তিনি বলেছেন যে, এই ধরনের মূল্য নির্ধারণ ফিফার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য একটি কৌশল। ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞের জন্য ফিফা যে মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করেছে, তাতে দর্শকদের গ্যালারির সামনের সারিতে বসে খেলা দেখা জন্য লাগবে প্রায় ৪ হাজার ১০৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ টাকার বেশি। এর পাশাপাশি, স্টেডিয়াম যেখানে অবস্থিত তার পার্কিং ফি ও অন্যান্য খরচও সাধারণ দর্শকদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ আবার দেখেছেন, স্টেডিয়ামের পার্কিং ফি মূল টিকিটের চেয়েও বেশি। ওপরে যোগ হয়েছে শহরগুলোর গণপরিবহনের ভাড়া, যা আগের তুলনায় অনেক গুণ বেশি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো ফরাসি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেছেন কেন তারা এই উচ্চ মূল্য ধরে রেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই ৩৯ দিনব্যাপী টুর্নামেন্ট থেকে অর্জিত আয় দিয়েই ফিফা পরবর্তী ৪৭ মাস ধরে বিশ্বব্যাপী তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। ইনফান্তিনো বলেন, ফিফার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস হচ্ছে এই বিশ্বকাপ। ফলে, ফুটবল খেলার বিকাশ, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক খরচ নির্বাহের জন্য এত অর্থ সংগ্রহ করতে না পারলে, তাদের সামনে কোনো বিকল্প থাকে না। বলে উল্লেখ্য, এই বক্তব্যের মধ্যে আনুসঙ্গিক অনুশোচনার কোনও ছিটেফোঁটা নেই বলে মত ক্রীড়া বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, বলছেন, এই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণ গাণিতিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনীয়তার ফল। অন্যদিকে, উচ্চমূল্যের টিকিটের সঙ্গে বড় বড় শহরে ফিফার নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক দেশের দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপের চেহারা এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ে গেছে। অনেক সমর্থক এই ধারণা পোষণ করছেন যে, ফিফা এখন মূলত বাণিজ্যিক লাভকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে, দর্শকের আবেগের চেয়ে। সার্বিকভাবে, অ্যামেরিকার তিনটি দেশে আয়োজন হওয়া এই বিশ্বকাপ এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফুটবল মহাযজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত হতে চলেছে। ফিফার এই আর্থিক মডেল ও মূল্য নির্ধারণ নিয়ে অটল অবস্থানে থাকায়, ভক্তদের পকেট থেকে এই বিশাল অর্থ ব্যয় হবে নিশ্চিত। মাঠের খেলার উত্তেজনা শুরু হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের অর্থনৈতিক বিতর্ক এই বিশ্বকাপের উৎসবের আনন্দকে কিছুটা ম্লান করে দিচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই ‘এক মাসের আয়ে ৪৭ মাসের খরচ’ তত্ত্ব আধুনিক ক্রীড়া বাণিজ্যের এক কঠিন সত্যকে জনসম্মুখে তুলে ধরেছে। SHARES খেলাধুলা বিষয়: