যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের বিরোধী: আনু মুহাম্মদ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২৬ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে। এই চুক্তির ফলে দেশটির সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের লাভজনক ও প্রয়োজনীয় সম্পর্কও স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলশ্রুতিতে এটি শুধুমাত্র একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বায়ত্বশাসন, স্বাধীনতা ও স্বনীতিকে সরাসরি হস্তক্ষেপের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন। অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় এবং কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা ও ডা. হারুন-অর-রশীদ। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই ধরনের বাণিজ্যচুক্তির মাধ্যমে আমাদের ওপর অনেক পণ্য আমদানির চাপ সৃষ্টি হবে, যেগুলো প্রকৃতপক্ষে দেশের জন্য অপরিহার্য নয়। এমনকি যেসব পণ্য আমরা অন্য দেশ থেকে কম দামে সংগ্রহ করতে পারি, সেগুলোও বাড়তি দামে নির্দিষ্ট উৎস থেকে আমদানির বাধ্যবাধকতা আরোপিত হতে পারে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক ব্যয়ের মধ্যে পড়বে ও বাজারব্যবস্থা বিকৃত হবে। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, এই চুক্তির শর্ত মোতাবেক বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংকুচিত হবে। দেশের সঙ্গে কোন দেশের বাণিজ্য করতে হবে, কোথা থেকে প্রতিরক্ষাসামগ্রী কিনতে হবে—এসব সিদ্ধান্তও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নিরীক্ষণে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। সমাবেশে ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, এই বাণিজ্যচুক্তি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করবে। বর্তমানে বাংলাদেশের জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতা মূলত নমনীয় পেটেন্ট নীতির কারণে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত কিছু শর্ত আরোপের আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের কোম্পানিগুলোর জন্য জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন কঠিন করে দেবে। গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এই চুক্তি দেশের স্থানীয় শিল্পসহ তিল তিল করে গড়ে তোলা পোল্ট্রি শিল্পকেও ধ্বংস করবে। গরীব মানুষের রুটি-রুজি বিপন্ন হবে। জনগণের স্বার্থবিরোধী এই ধরনের চুক্তি করে কোনও সরকার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। এ ধরনের চুক্তি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের ক্ষতি করে। বিরোধীদলকেও এই সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে। মার্কিন মদদে জনগণের স্বার্থের জন্য লড়াই করতে হবে, কারণ জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী বিজ্ঞাপন বা চুক্তি কোনো দেশের উন্নতি এনে দেয় না। SHARES রাজনীতি বিষয়: