কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে স্বাবলম্বী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা হবে: কৃষিমন্ত্রী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘কৃষক কার্ড দেশের কৃষি খাতকে স্বাবলম্বী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে।’ তিনি এই আশা প্রকাশ করেন যে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকরা নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা আরও সহজে পাবেন। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিকটি গুরুত্বপূর্ণ because শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীও তার সেই স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন, যা মূলত ‘কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ এই দর্শনের প্রতি অঙ্গীকার।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে ১ হাজার ৪৫৮ কৃষকের মধ্যে নতুন এই কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিপ্রেমী সরকার এবং কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। কৃষি কার্ড এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা কৃষকদেরকে দ্রুত ও সরাসরি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ দেবে। এতে করে কৃষকদের সম্মান ও অধিকার অনেক বেশি বেড়ে যাবে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে পেতে পারবেন।

কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি প্রণোদনা পাঠানো হবে। এই কার্ডের আওতায় মোট পাঁচটি শ্রেণি—ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক—আসবেন। মূলত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, ভর্তুকি ও বিমা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে, ধাপে ধাপে, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে, যা পুরো দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হবে।

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল কৃষি কার্ডের ঘোষণা। অনেক সমালোচনার মুখেও সরকার নির্বাচনের আগেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ফ্যামিলি কার্ড চালু করে এই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তিনি যোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়া পাশ্চাত্য কৃষিঋণ ও সার ভর্তুকি শুরু করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর থেকে কৃষকদের স্বার্থে নানা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষক। তাদের সমৃদ্ধি ব্যতিরেকেই দেশের অর্থনীতি দৃঢ় হবে না।”

অতিরিক্তভাবে, কৃষকরা যদি এই কার্ডটি যত্ন করে রাখেন, তারা তাদের সুবিধাগুলো থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি আরো বলেন, “এদেশের কৃষকের উপর অন্যায় করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কারণ, আমাদের দেশের ১২ মাসের ফসলের দেশ। কৃষি শক্তিশালী হলে আমাদের আর কারো কাছ থেকে ভিক্ষা বা ঋণ নিতে হবে না।”

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গাজীপুর গ্রামের এক কৃষাণী, সালমা আক্তার, বলেন, “আমার পরিশ্রম এবং পরিশ্রমের একটা মূল্য আছে। আমি শুধু একজন গৃহিণী না, আমি দেশের খাদ্য উৎপাদনের একজন কৃষক। এই কার্ড যেন আমার পরিচয়পত্র হয়ে উঠুক।”

অতিরিক্ত, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামাদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু), জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া প্রমুখ।