অক্ষয়ের ‘ভূত বাংলা’য় সেন্সরের হানা, ৬৩ কাটছাঁট

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমার অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত হরর-কমেডি চলচ্চিত্র ‘ভূত

বাংলা’ মুক্তির চূড়ান্ত মুহূর্তে এসে বড় ধরণের সেন্সর জটিলতার সম্মুখীন হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড (সিবিএফসি) ছবিটির বিভিন্ন সংলাপে

অশালীনতা ও কিছু আপত্তিকর দৃশ্যের কারণে মোট ৬৩টি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। দীর্ঘ

পর্যালোচনার পর এই বিপুল সংখ্যক কাটছাঁট ও সংশোধনগুলো মেনে নিয়েই শেষ পর্যন্ত

প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের ছাড়পত্র পেয়েছেন নির্মাতারা। সেন্সর বোর্ডের এই কড়াকড়ির

ফলে মূল সিনেমার দৈর্ঘ্যেও বেশ পরিবর্তন এসেছে।

সিবিএফসি-র পরীক্ষক কমিটি ছবিটির বিষয়বস্তু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রায় ১০

মিনিটের ফুটেজ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো

হয়েছে, সিনেমার ২৬ মিনিট এবং ১ ঘণ্টার কাছাকাছি সময়ে ব্যবহৃত বেশ কিছু অশালীন ও

কুরুচিপূর্ণ শব্দ বদলে ফেলতে হবে। এছাড়া ছবির প্রথমার্ধে নারীদের প্রতি অবমাননাকর

একটি বিশেষ সংলাপ নিয়ে কঠোর আপত্তি তোলে বোর্ড, যা পরবর্তীতে নির্মাতারা সংশোধন

করতে বাধ্য হন। এছাড়া গল্পে থাকা ধর্মীয় উপাদান ও কুসংস্কার সংক্রান্ত বিষয়গুলোর

সংবেদনশীলতা রক্ষায় সিনেমার শুরুতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি বা

‘ডিসক্লেইমার’ যুক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সংলাপের পাশাপাশি দৃশ্য ও গানের ক্ষেত্রেও সেন্সরের কাঁচি চলেছে। সিনেমার সবচেয়ে বড়

যে দৃশ্যটি বাদ পড়েছে তার দৈর্ঘ্য ছিল ৭২ সেকেন্ড। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য কিছুটা

দুঃসংবাদ হলো, ছবির জনপ্রিয় গান ‘ও সুন্দরী’-র একটি বড় অংশ এবং ‘ওরে ও সাওয়ারিয়া’

গান থেকে ২৭ সেকেন্ডের দৃশ্য কেটে ফেলা হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল সিবিএফসি নির্মাতাদের

জমা দেওয়া এই সংশোধিত সংস্করণে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে এবং ছবিটিকে ‘ইউএ’ (UA)

ক্যাটাগরিতে সনদ দেয়। এর অর্থ হলো, ১৬ বছরের কম বয়সী দর্শকদের এই ছবিটি দেখতে হলে

অভিভাবকের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে।

প্রাথমিকভাবে সিনেমাটি ১০ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও কৌশলগত কারণে এর মুক্তির

তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৭ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত বর্তমানে বক্স অফিসে

চলা ‘ধুরন্ধর ২’-এর প্রবল ব্যবসায়িক চাপের মুখে নিজেদের নিরাপদ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত

নিয়েছেন প্রযোজকরা। অক্ষয় কুমারের সাথে এই ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন টাবু, ওয়ামিকা

গাব্বি, পরেশ রাওয়াল এবং রাজপাল যাদবের মতো একঝাঁক তারকা। সব ধরণের কাটছাঁট শেষে

বর্তমানে ছবিটির চূড়ান্ত দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ১৬৪ মিনিট ৫২ সেকেন্ড, অর্থাৎ প্রায় ২

ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। দীর্ঘ বিরতির পর অক্ষয় ও প্রিয়দর্শন জুটির এই প্রত্যাবর্তনে সেন্সর

বোর্ডের এই হস্তক্ষেপ সিনেমার মূল আবেদনে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটিই দেখার

বিষয়।