পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬ চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক অভিযানের পর অবশেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী। তাদের বহনকারী মহাকাশযান ওরিয়ন ক্যাপসুলটি স্প্ল্যাশ ডাউন করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলের প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে (১১ এপ্রিল, রাত ৮টা ৭ মিনিট মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় সময়) এই অবতরণ সম্পন্ন হয়। এটি ৫০ বছরের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো মানুষের চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মিশন। স্প্ল্যাশ ডাউনের মাধ্যমে মহাকাশযানটি সফলভাবে সমুদ্রে নামানোর পরে, নাসার মুখপাত্ররা জানিয়েছেন যে, নভোচারীরা পুরোপুরি সুস্থ ও স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিয়ারিয়াল বলেন, “সমুদ্রে অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যেই নভোচারীদের উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’ জাহাজে নেওয়া হবে।” পরে তাদের প্রথমে একটি বিশেষ র্যাফট বা ভেলায় আনা হবে, যাকে বলা হয় ‘ফ্রন্ট পোর্চ’, যেখানে থেকে হেলিকপ্টার করে নৌবাহিনীর জাহাজে নেওয়া হবে। নাসার ফ্লাইট কন্ট্রোলার জেফ রাডিগান নিশ্চিত করেছেন, যদি আকাশপথ শান্ত থাকে, তাহলে এই উদ্ধার প্রক্রিয়া সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর স্বাস্থ্যের অবস্থা পরীক্ষা করে, নভোচারীরা হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে পৌঁছাবেন। এই ১০ দিনের চন্দ্র অভিযানটি সফলভাবে শেষ হলো। ১ এপ্রিল শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। মিশনটি নতুন অনেক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। চাঁদের দূরবর্তী অংশে থাকতে থাকে, পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড (২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল) কে ভেঙে দিয়েছে। এছাড়াও, ভিক্টর গ্লোভার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণ করেছেন, যা তাঁদের অনন্য ইতিহাস রচনা করেছে। নভোচারীরা এই অভিযানের সময় বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হিসেবে অন্তত ছয়টি উজ্জ্বল উল্কাপাত সরাসরি দেখেছেন। আটেমিস-২ অভিযানটি ছিল ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পদচিহ্ন রাখার নাসার পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই ঐতিহাসিক মিশনের সরাসরি সম্প্রচার নাসা, প্লাস, অ্যামাজন প্রাইম, নেটফ্লিক্স ও অ্যাপল টিভিতে প্রচারিত হয়। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: