চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ডিএসই’র বৈঠক, বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬

বাংলাদেশে কার্যরত চীনা কোম্পানিগুলোর শীর্ষ সংগঠন চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের (সিইএবি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কার্যকর পরিবেশ তৈরি করার গুরুত্বারোপ করেছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তারা ডিএসইর কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন এবং এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন জানান।

প্রতিনিধিদল নেতৃত্ব দেন সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মা বেন, যার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি দল এই আলোচনায় অংশ নেন। ডিএসইর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠক এইচে চায়না বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন, হুয়াওয়ে, চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেংফেই’স সাপ্লাই চেইন, জিংসু কনস্ট্রাকশন, হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট, চেন হুইমিন, হুইসি দ্য অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ল’ ফার্ম, চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো, বাংলাদেশ সিনো-সোর্স কনস্ট্রাকশন, সিকেডি লেজার, ডংজিং গ্রুপ, কোকো ফ্যাশন, জিয়াংসু গুয়োতাই হুয়াশেং, শিন গাও টেক্সটাইল, জিংতাই রোড অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি, বিওএফ, ভিভো এবং শেনজেন কিংডমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কার্যকর রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের জন্য কৌশল প্রণয়ন চলছে; চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করে যৌথ উন্নয়ন লক্ষ্য করা হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা ও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করতে সিইএবির সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ডিএসই থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরো জোরদার হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হবে বলে আশা করা হয়েছে, পাশাপাশি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করে বিনিয়োগ ও তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া হবে।

সিইএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট মা বেন বলেন, “এই বৈঠক পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে চীনের অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২৫০ এর বেশি, যারা বাণিজ্য, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে সক্রিয়।

মা বেন বলেন, “চীনা কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন, টানেল, সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে, পয়ঃশোধনাগার ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ২০২৬ সালে সিইএবি বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে; দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে।”

বৈঠকে ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. আদিব হোসেন খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হল ও ট্রেনিং একাডেমি ঘুরে দেখেন।