সিলেটে কৃষকের হাট উদ্বোধন করে বাজার সিন্ডিকেট রুখে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাণিজ্যমন্ত্রী

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬

সিলেটে বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে চালু হলো ‘কৃষকের হাট’। এই বিশেষ বাজারের মাধ্যমে উৎপাদক ও ক্রেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপের সুযোগ কমাবে ও মূল্যোন্নয়নে সহায়তা করবে।

আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেটের টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় এক সুন্দর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আনুষ্ঠানিকভাবে এই হাটের উদ্বোধন করেন। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছে সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যাতে প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করতে প্যারাছাড়াই হবে। এতে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগীদের দখলদারত্ব এড়িয়ে তাদের লাভ বহির্গত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্যমন্ত্রী উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, কৃষিপণ্য উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে প্রায় চার থেকে পাঁচ স্তর চলে, যার ফলে দামে অসঙ্গতিপূর্ণ বৃদ্ধি ঘটে। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তরটি কমিয়ে আনবে, যার ফলে কৃষক ও ভোক্তা দুইই উপকৃত হবেন। তিনি আরও বলেন, সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে বাজারে স্বস্তি আসবে এবং মূল্য স্থিতিশীল থাকবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন এই হাট বসবে। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকায় চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের আশঙ্কা থাকছে না। পাশাপাশি, বাজার নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত সমস্ত সরবরাহ চেইনকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। এর মাধ্যমে বাজারের তদারকি সহজ হবে ও কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।

এছাড়াও, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংস্থা বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি শক্তিশালী ‘কাউন্টার ব্যালান্স’ সৃষ্টি করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়াতে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও খাল পুনঃখননের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাজার আরও স্থিতিশীল ও কার্যকরী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন সকালেই নির্ধারিত স্থানে এই হাট পরিচালিত হবে। এই উদ্যোগ সফল হলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে নিরাপদ ও তাজা পণ্য কিনতে পারবেন। এতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশা করা হচ্ছে।