বিকেএমইএর শ্রম আইনের বিভ্রান্তিকর ধারা সংশোধনের আহ্বান

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শ্রম (সংশোধন) বিল ২০২৬ কে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএ। তবে, আইনের কিছু ধারা এখনও অস্পষ্ট থাকায় ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শ্রম আইনের কিছু ধারায় কৌশলের মাধ্যমে অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল। বিকেএমইএর মতে, এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি শ্রম অসন্তোষের কারণ হতে পারে।

সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, যদি এই ধরনের অস্পষ্টতা অব্যাহত থাকে, তাহলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সরকার কিছু ধারা সংশোধন করে বাংলাদেশি শ্রম আইন পাস করলেও এখনো কিছু বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে শ্রমিকদের অসন্তোষের কারণ হতে পারে। এসব সমস্যা মোকাবিলা না করা হলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে বাধা সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসা সহজীকরণও ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

শিল্পে স্থিতিশীল উৎপাদন পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও শ্রম আইন ও বিধি বাড়ানোর সময় এসব অস্পষ্টতা দূর করার জন্য সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিকেএমইএ।

এছাড়াও, শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করার প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানানো হলেও সংগঠনটি বলছে, যদি কারো শ্রমিক পরিচয়ে আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড—যেমন দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, কর্মকর্তাদের জিম্মি করা, অবৈধ ধর্মঘট বা অন্য শ্রমিকদের কাজে বাধা দেয়—প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদেরকেও কঠোর শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব দেয়া উচিত।

বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কারে ভূমিকা রাখা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দূতাবাসগুলোর প্রতি আহ্বান—আন্তর্জাতিক ক্রেতারা কি বাংলাদেশের পোশাক সরবরাহকারীদেরকে ন্যায্য ও নৈতিক মূল্য (ফেয়ার অ্যান্ড এথিক্যাল প্রাইস) দিচ্ছেন কি না, সেটাও নজরদারিতে রাখা জরুরি। নচেৎ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিক উভয় পক্ষই ক্ষতির মুখে পড়বে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।