হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিতে আলোচনা মনোযোগে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা গড়িয়েছে ভারতের সাথে। ঢাকা পুনর্ব্যক্ত করেছে, তারা বাংলাদেশে নিযুক্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গত ১০ এপ্রিল মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিত নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে অংশ নেয়ার আগে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আগেই প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি জানিয়েছি। এবারও সেই मांग পুনরাবৃত্তি করেছি।” তবে কৌশলগত কারণবশত তিনি এই বিষয়ক আরো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের পর থেকে দিল্লিতে রয়েছেন। ওই সময় সেই সময় ভারতের রাজধানীতে অবস্থান করছেন তিনি। দ্য হিন্দু সূত্রে জানা গেছে, তার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ভারতের বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে।

এর আগে, ৮ এপ্রিল ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সময় পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার এর আগে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এই সফরে সেই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করা হয়। তবে, সব কিছু গোপন রেখে কৌশলগত কারণে বেশ কিছু বিবরণ এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ।

বিগত নভেম্বরে, তৎকালীন সরকারীয় দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি ভারতে রয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে তাকে এবং অন্য এক সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রত্যর্পণের আবেদন জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, নিশানের এই অনুরোধ বর্তমানে ভারতের বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশে শান্তি ও উন্নতির জন্য সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে, বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারতের সফর নিয়ে জল্পনা চলছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই সফর অবশ্যই হবে, তবে তার তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তিনি বলেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে সফরটির প্রস্তুতির জন্য বেশ কিছু কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। দুই নেতা ইতিমধ্যে একাধিক চিঠি ও ফোনালাপের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সাথে সম্পর্কের এই অগ্রগতি খুবই আশাপ্রদ। খলিলুর রহমান বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সম্পর্কের এই অগ্রগতি দেখতে পাব বলে আমি আশাবাদী।’

এছাড়া, ডেল্লির বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার বিষয়টি উত্থাপন করে। ভারতের থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই সংকট আরও গাঢ় হতে পারে। ১৯৭০ এর দশকের তেলসংকটের মতো এটি দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আমাদের সবাইকে একসাথে দাঁড়াতে হবে নয়তো ক্ষতি আমাদেরই হবে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান এই সময়ে, বাংলাদেশ বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আঞ্চলিক এই জোটকে আরও সক্রিয় করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যদি সবাই একসাথে কাজ করে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের অংশগ্রহণের শর্তগুলো দূর করা যায়, তবে সার্ক সম্মেলনের কোনও বাধা থাকবে না। এটি মূলত অন্যদের বোঝানোর ব্যাপার।’