মিয়ানমার সীমান্তে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২৬

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি পৃথক অভিযানে বিজিবি অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন, ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) সহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সরঞ্জাম সফলভাবে উদ্ধার করেছে। এই এসব সামগ্রী পাওয়ার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়, ভোরে পৌনে ৫টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তের পিলার ৫৩ ও ৫৪-এর মাঝের ছড়াপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সীমান্তের গহীন পাহাড়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়, তবে পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অন্যান্য সরঞ্জাম।

উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন, পাঁচটি আইইডি, একটি ডেটোনেটর, একটি সোলার প্যানেল, বিভিন্ন বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ, একটি মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং কিছু সিভিল পোশাক।

বিজিবি জানায়, ভোরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ছড়াপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় তারা সন্দেহভাজনদের ব্যাগ ফেলতে দেখে এবং অতর্কিতে পাহাড়ের গহীনে তারা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তল্লাশি করে এসব বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়, যা পরে নিরাপদে বালুর বস্তা দিয়ে ঢেকে ফেলেছে।

অপরদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতে বাইশফাঁড়ী এলাকার একটি আমবাগানে মালিকানাবিহীন অবস্থায় দাহ্য পদার্থ, প্রায় তিন কেজি বেগুনের মতো দাহ্য তরল, নাইলন কাপড় ও দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করে বিজিবি।

কক্সবাজারের ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, উদ্ধার হওয়া মাইন ও আইইডিগুলি দ্রুত নিরাপদ করার জন্য বালুর বস্তা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়।

অন্যদিকে, ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুল কবির জানান, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিশেষায়িত রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।