রাজধানীতে সবজির দাম আকাশছোঁয়া

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২৬

রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে গত কয়েক দিনের তুলনায় সবজির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে বাজারে গিয়েই দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম সাধারণ মানুষের পক্ষে ძალই ঢুকছে না। বিক্রেতারা বলছেন, দেশে জ্বালানি তেলের অভাব ও পরিবহন খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, এছাড়াও শীতকালীন সবজির মৌসুমের শেষের দিকে থাকায় এই দাম উঠে গেছে। সরবরাহ সংকটের কারণে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি সবজির দাম ১০ থেকে ৩০ টাকায় বেড়ে গেছে।

আজ শুক্রবার, রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজিই এখন কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ও ঝিঙ্গা কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, চিচিঙ্গা, করলা ও পটল কেজি ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। পেঁপে ও শসা কেজি ৬০ টাকা এবং টমেটো ও মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, কাঁচা মরিচের ঝাল বেড়ে প্রতি কেজি এখন ১২0 থেকে ১৪0 টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের ক্রেতারা এই অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি দেখে চরম ঈর্ষান্বিত হয়েছেন। শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় আজ সব ধরনের সবজিরই দাম অনেক বেড়ে গেছে। যদি পকেটের টাকা বেশি না থাকে, তাহলে আজকে আর বাজেটের মধ্যে বাজার করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য প্রতিদিনের খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্যবসায়ীরাও এই পরিস্থিতির জন্য মূলত লজিস্টিক সমস্যা ও মৌসুম পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। মালিবাগের সবজি বিক্রেতা আফজাল হোসেন মৃধা জানান, পাইকারি বাজারে সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক কম। জ্বালানি সংকটের কারণে গ্রাম থেকে সবজি আনার জন্য ট্রাকের ভাড়াও বেড়ে গেছে, ফলে বাজারে খুলনার শীতকালীন সবজির মোকাবিলা নিশ্চিত করতে কিছুটা দাম বাড়ছে। পাশাপাশি, শীতকালীন সবজি শেষের পথে থাকা এবং গ্রীষ্মকালীন সবজির পুরোপুরি বাজারে আসতে আরও কিছুদিন সময় লাগছে। এই সময় দেরিতে সরবরাহের ঘাটতি থাকায় দামের এই ঊর্ধ্বগতি হচ্ছে। তবে আশাবাদী, নতুন মৌসুমের সবজি বাজারে আসা শুরু করলে এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শাক-সবজির পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়েছে। লাউ এখন পিসে ৭0 থেকে ৮0 টাকা এবং সজিনা কেজি দরে ৮0 থেকে ১০0 টাকা বিক্রি হচ্ছে। এমনকি ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রথমদিকে ৪0 থেকে ৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, বাজারের অস্থিরতা কমাতে যদি দ্রুত তদারকি না করা হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তবে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়তেই থাকবে। বর্তমানে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য দৈনিক খাবারের খরচ মেটানো খুব কষ্টের হয়ে পড়েছে।