আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকছে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১১, ২০২৬ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে নতুন আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নতুন একটি অধ্যাদেশ পাস করেছে, যা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি, সংগঠন ও তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দিচ্ছে। এর ফলে, জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে এই বিলটি পাস হয়। এতে পূর্বে জারি করা নিষেধাজ্ঞাগুলি আইনি ভিত্তি পেল এবং আরো ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিলও একসঙ্গে পাস হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের আইন, সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (এমেনডমেন্ট) আইন, শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) আইন, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের সংশোধনী আইন এবং জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইন। উল্লেখ্য, ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিত করা হয়েছে, যার ফলে শেখ পরিবারের সদস্যদের জন্য থাকা বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধাসমূহ বাতিল হলো। এই অধ্যাদেশটি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জারি করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাবিধান। ভবিষ্যতে এই আইনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রদত্ত সব সুবিধাও বাতিল করা হয়েছে। বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যার বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ২০০৯ সালে জারি করা ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ পরবর্তীতে ২০১৫ সালে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কার্যকর ছিল। তবে এটি স্পষ্ট ছিল না যে, কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের জন্য নিরাপত্তা ও সুবিধা প্রদানের জন্য এই আইন তৈরি হয়েছে, যা বৈষম্য সৃষ্টি করত। তাই, এই বৈষম্য দূর করতে এবং আইনের আধুনিক প্রয়োজনের জন্য, অস্থায়ী আইনটি বাতিল করে নতুন আইন আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, ‘জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়, যা এখন স্থায়ী আইন হিসেবে সংসদে গৃহীত হয়েছে। এভাবে, আওয়ামী লীগের শাসনের সময় বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ঐতিহাসিক নিরাপত্তা ও সুবিধা দিয়ে রাখা হয়েছিল, যা এখন বাতিল হলো। ২০২৫ সালের মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অধ্যাদেশ জারি করে। সেই সময় দলের কার্যক্রম বন্ধের জন্য আইন সংশোধন করার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দল ও নেতাদের বিচারের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এরপর, নতুন সরকারের আমলে এই প্রক্রিয়াকে আইনী রূপ দেওয়া হয়। বুধবার সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উপস্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়। অন্য বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) বিল’, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নাম থেকে ‘শেখ হাসিনা’ সেরূপে সরানো হয়। বিলগুলো উদঘাটিত হয় সরকারি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে, এবং সংশ্লিষ্ট কোনো সংশোধনী ছাড়া সরাসরি পাস হয়। এই সংশোধনী বিলের মাধ্যমে বর্তমান আইনে থাকা, সত্তাকে নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধান যোগ করা হয়েছে, যা সময়োপযোগী বলে বিবেচিত। এই বিধানে বলা হয়, কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য সরকার তালিকা তৈরি করতে পারবে, যার মধ্যে প্রেস বিবৃতি, গণমাধ্যমে প্রচারণা, সভা বা জনসম্মুখে বক্তৃতা অন্তর্ভুক্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উপস্থাপন করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর সংশোধন। এই নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে, ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ও ২০ ধারাকে সংশোধন করে, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তির বা সংগঠনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও স্পষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। সংশোধনী ধারা অনুযায়ী, তিনি বা তার পক্ষে বা সমর্থনে সকল ধরনের প্রচারণা, সভা, সংবাদ সম্মেলন বা অনলাইন মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া, এই আইনে উল্লেখ রয়েছে যে, ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হবে বলে গণ্য হবে। এই বিলের উদ্দেশ্য ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা। এই আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর লক্ষ্যে অবদান রেখেছিল। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই আইন প্রণয়ন জরুরি ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষার জন্য এই বিল প্রণয়ন করা হয়। বিস্তারিত ছিল, যে July Revolution নামে অভিহিত এই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে, সরকার হত্যাকাণ্ড ও আক্রমণ চালিয়েছিল, যা পল্টনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার আইন প্রণয়ন ও নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে, যাদের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা চালু হয়। এভাবে, বঙ্গবন্ধুর শাসন ডিঙিয়ে, অস্থায়ী সরকারের মধ্যে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই সব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম গোলযোগমুক্ত বা নিষিদ্ধ রাখা হয়। SHARES রাজনীতি বিষয়: