মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন মিন অং হ্লাইং

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২৬

মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে

দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পাঁচ বছর আগে রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের

পর এখন তিনি বেসামরিক পদমর্যাদায় নিজের কর্তৃত্ব সুসংহত করলেন। আজ শুক্রবার দেশটির

রাজধানী নেপিদোর পার্লামেন্টে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ

নেন।

২০২১ সালে মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে এক সামরিক অভ্যুত্থানে মিয়ানমারের নির্বাচিত

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করা হয়। ওই সময় থেকেই

দেশজুড়ে সংঘাত ও গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং নেত্রী সু চিকে কারাবন্দী করা হয়। দীর্ঘ

শাসনের পর গত জানুয়ারিতে দেশটিতে নির্বাচনের আয়োজন করা হলেও তাতে প্রধান বিরোধী

দলগুলো অংশ নেয়নি। ফলে সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদেরা জয়ী হয়ে মিন অং

হ্লাইংয়ের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ সুগম করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মিন অং হ্লাইং শীর্ষ জেনারেলের পদ থেকে

সরে দাঁড়ান। শপথ গ্রহণ শেষে দেওয়া ভাষণে ৬৯ বছর বয়সী হ্লাইং বলেন, ‘মিয়ানমার

গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে এবং একটি ভালো ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’ তবে তার

নতুন মন্ত্রিসভার ৩০ জন সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশই সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, যাদের

অনেকের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেপিদোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই উপলক্ষে

সু চির প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাসহ কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং

চাকরিচ্যুত কর্মীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও সমালোচকরা একে স্রেফ লোক

দেখানো পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে মিন অং হ্লাইং দাবি করেছেন, তার সরকার ‘সামাজিক

পুনর্মিলন, ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন বিবেচনায় সাধারণ ক্ষমা

দেবে’।

নিজের ভাষণে হ্লাইং একবারও সু চির নাম উচ্চারণ করেননি, যিনি বর্তমানে রাজনৈতিক

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের কারাগারগুলোতে ২২

হাজারেরও বেশি মানুষ বন্দী রয়েছেন।