অর্থনৈতিক অঞ্চলে নৌ-সংযোগ জোরদারে জেটি নির্মাণ করবে বিআইডব্লিউটিএ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২৬ জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড) এ শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও সহজ এবং দ্রুত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে নতুন জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নদী ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন আরও কার্যকর হবে, যা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিরাট সুবিধা বয়ে আনবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) যৌথভাবে এই উদ্যোগে কাজ করবে, যেখানে দুই সংস্থার মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) একটি চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। বেজার নির্বাহী সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, এই প্রকল্পের জন্য বেজা জমি প্রদান করবে এবং জেটি নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে বিআইডব্লিউটিএর উপর। নতুন এই জেটিটি মূলত মীরসরাইয়ের পশ্চিম পাশে সমুদ্রসংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হবে, যেখানে ছোট ও মাঝারি আকারের জাহাজে পণ্য পরিবহন সহজ ও দ্রুত হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি পণ্য ওঠানামা করতে পারবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা হবে। নজরুল ইসলাম আরও জানান, এই প্রকল্পের জন্য একটি প্রফিট শেয়ারিং মডেল প্রণয়ন করা হবে এবং এর চূড়ান্ত চুক্তি বিস্তারিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জেটি নির্মাণ ও পরিচালনা করা হবে, যা শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সেবা প্রদান করবে এবং ফলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব কমবে। বেজা আরও জানায়, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, ফেনীর সোনাগাজীসহ প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল এনএসইজেড। এই এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে নাম লিখিয়েছে এবং আরও অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন। এই জেটি চালুর ফলে এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পণ্য পরিবহন দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নৌপরিবহন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুননাহার চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, এই জেটির নির্মাণ কাজের জন্য আজই চুক্তি সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, জমি নির্ধারিত এবং দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, ফলে দ্রুত কাজ এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে এই জেটিটি শিল্পপণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হবে, তবে পর্যটন ও অন্যান্য নৌ-পরিবহন কার্যক্রমের জন্যও পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিআইডব্লিউটিএ ও বেজা যৌথভাবে নির্মাণ, নিরাপত্তা ও পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা চূড়ান্ত করছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার একটি পরিচালনা করবে বিআইডব্লিউটিএ এবং বাকি দুটি বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে তৈরি হবে। বেজা সূত্র থেকে জানা গেছে, নির্ধারিত এলাকায় কন্টেইনার টার্মিনাল, রেল, সড়ক ও সমুদ্রপথকে সংযোগ করে একটি সমন্বিত লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে টেকসই ও আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য উপায়ে যেমন স্থল, নৌ ওসমুদ্রবন্দর এবং রেল সংযোগের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও আধুনিক লজিস্টিক অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় লজিস্টিক নীতির আওতায় পরিবেশবান্ধব, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী এবং প্রযুক্তি নির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সক্ষম করে তুলবে। এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাব্য অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। SHARES অর্থনীতি বিষয়: