বরিশাল-ভোলা সেতু: দীর্ঘতম সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২৬

বরিশাল-ভোলা সড়কে নির্মাণাধীন দীর্ঘতম সেতু প্রকল্পটি দেশের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে। ভোলা ও বরিশাল এলাকা সংযোগের জন্য এই প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ কিলোমিটার। এই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে শুধুমাত্র ভোলা-বরিশাল যোগাযোগ সহজ হবে না, বরং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও নতুন দিগন্তে পৌঁছে যাবে।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৩৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। নির্মাণ শেষে এটি দেশের সবচেয়ে বড় সেতু হবে। বুধবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভা সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলার সাথে বরিশাল ও ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এই প্রকল্পটি গৃহীত হয়েছে। এর আওতায় ১০.৮৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪-লেন সেতু এবং ১৮.০৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর তীর রক্ষা কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সম্ভাব্য সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই প্রকল্পটি অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশ লাভজনক, তাই পিপিপি ভিত্তিতে এর বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সেতু চালু হলে ২০৩৩ সালে প্রতিদিন প্রায় ৪,৯৯৬ যানবাহন চলাচল করবে, এবং ২০৬২ সালে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৪১,৮৬৫ যানবাহনে পৌঁছাবে। এছাড়া, এই প্রকল্পের জন্য ৫০৭.৫ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ইউটিলিটিজ স্থানান্তরের খরচ সরকারের ব্যয়ে প্রদান করা হবে।

ভোলা বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা, যা সম্পূর্ণভাবে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলা নদীপথের মাধ্যমে যুক্ত। বর্তমানে ভোলা থেকে বরিশাল যেতে নৌপথে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা, যেখানে ফেরি বা লঞ্চ ব্যবহার করতে হয়। সেতু নির্মাণের ফলে এই সময় কমে মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে হাসপাতালের রোগী পরিবহন, জরুরি সেবা ও পণ্য পরিবহন অনেক সহজ ও দ্রুত হবে। দ্রুত পৌঁছে যাওয়ার সুবিধায় শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।

এছাড়াও, এই সেতু নির্মাণের ফলে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার হবে। পর্যটকদের জন্য হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, গাইড সার্ভিস, নৌভ্রমণ এবং হস্তশিল্পের দোকান খুলে বাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। নারীরা হোম কিচেন ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। নতুন ব্যবসার জন্য দোকানপাট, পরিবহন ও অন্যান্য সেবা শুরু হবে, যা এলাকাবাসীর জীবন মান উন্নত করবে। এর পাশাপাশি, সেতুর আশেপাশে নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক অঞ্চল গড়ে উঠবে, ফলে ভোলা-বরিশাল কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের রূপ নেবে।