চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ধারাবাহিক উন্নতি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২৬ নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ধারাবাহিক অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, শ্রমিক আন্দোলন এবং অন্যান্য অন্তরায় সত্ত্বেও, এই বছর প্রথম দিকে কনটেইনার পরিবহন দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে বন্দরে মোট ৭ লাখ ৯৯ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ হাজার ৮৪৫টি বেশি। তবে, একে অপর পাশে পণ্য হ্যান্ডলিং কিছুটা কমেছে; এই তিন মাসে মোট ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন পণ্য ওঠানামা করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ লাখ ৪১ হাজার টন কম। অপরদিকে, জাহাজ আগমনেও কিছু কিছু হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে; গেল বছর ১ হাজার ১১১টি জাহাজ আসলে, বর্তমানে ১ হাজার ৮৭টি জাহাজ এসেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে বন্দরে মোট কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৮ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। এ সময়ের মধ্যে বন্দরে এসেছে ৩ হাজার ২৩০টি জাহাজ, যা মোট প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একক মাস হিসেবে ২১ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ডলার সংকটের কিছুটা সমাধান, জ্বালানি, গম ও শিল্প কাঁচামালের আমদানি বৃদ্ধিই এই অগ্রগতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি, জাহাজের গড় অবস্থানের সময় কমে গেছে এবং বর্হিনোঙ্গরে জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বন্দরের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও বিভিন্ন সেবার অটোমেশনসহ নানা উদ্যোগের ফলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রমও চলমান রাখতে চাই।’ বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বাংলাদেশের নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের অধীনে থাকায় কাজের গতি অনেক বেড়েছে। ই-গেট ও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম চালুর ফলে দক্ষতা বাড়ছে। বর্তমানে বন্দরে জাহাজের অপেক্ষার সময় প্রায় নেই বললেই চলে, এবং জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম এখন চার দিন থেকে কমে ২.৫৩ দিনে পৌঁছেছে। এছাড়াও, ‘সিপিএ স্কাই’ ও প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেসের (পিএপি) মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এই অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সৈয়দ রেফায়েত হামিম আরও বলেন, ‘এনসিটি’র কার্যক্রম হস্তান্তর শেষে দক্ষতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ঈদুল ফিতরের সময়েও কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’ এদিকে, ফেব্রুয়ারি শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভাড়া ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এছাড়া, এনসিটি বিদেশি অপারেটরদের কাছে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের বিক্ষোভের কারণে বন্দর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানান, ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন, জাহাজের গড় ‘টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসছে। ধারাবাহিকভাবে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বার্থ অকুপেন্সি দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হবে, এবং দেশের আমদানি ও রপ্তানি কাজে নতুন প্রাণসঞ্চার হবে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: