বিনিয়োগের জন্য স্বচ্ছ এবং স্বয়ংক্রিয় কর ব্যবস্থার আহ্বান ফিকিরের

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬

আসন্ন জাতীয় বাজেটের প্রাক্কালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফোরেইন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি) দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং বিনিয়োগবান্ধব করার পক্ষে জোর দিচ্ছে। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে সংগঠনটি এ দাবি তুলে ধরে। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। আলোচনায় ফিকি সভাপতি রুপালী হক চৌধুরীসহ সংগঠনের উচ্চ কর্মকর্তারা অংশ নেন। দর্শকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্নেহাশীষ মাহমুদ ও স্নেহাশীষ বড়ুয়া, সংগঠনের শীর্ষ কর্তারা। সংগঠনটি বাজেটের জন্য প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে, যেখানে তারা বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই বিনিয়োগ, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সরকারের রাজস্ব বাড়াতে কার্যকর এবং যৌক্তিক করনীতি প্রয়োজন। উচ্চ হারে উৎসে কর ও বড় ধরনের ব্যয়ের অপ্রয়োজনীয় ঘোষণা মূলত করের বাস্তব হারকে আইনি হার থেকে বেশি করে দিচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করে। এই পরিস্থিতি সমাধানে, উৎসে কর হার কমিয়ে বাস্তবের কাছাকাছি আনার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত করের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, এবং নিম্ন আয়ের স্তর অনুযায়ী কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে মধ্যম আয়ের মানুষদের উপর চাপ কমে যায় এবং অর্থনীতিতে গতি আসে। সংগঠনটি জানায়, প্রশাসনিক জটিলতা ও কঠোর বিধান প্রয়োগের কারণে ভ্যাট ইনপুট ক্রেডিটের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, যা ব্যবসার উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এজন্য, ভ্যাটের ক্রেডিট ব্যবস্থা সহজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুশকিল ৪.৩ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। কাস্টমসের লেনদেনমূল্য নির্ধারণে ২০০০ সালের ভ্যালুয়েশনের নিয়ম অনুসরণ ও পণ্য ডিসক্রিপশনে বিলম্ব কমাতে ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে প্রিভিশনাল অ্যাসেসমেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, অডিট ও করপ্রক্রিয়া সহজ করতে অ্যানালিটিক্যাল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও ডDigitাল করব্যবস্থা চালুর উপর জোর দেওয়া হয়, যা করদাতা ও সরকারের জন্য সুবিধাজনক হবে। সংগঠনটি আরও জানায়, বর্তমান করের চাপ মূলত নিয়ম মেনে চলা করদাতাদের উপর বেশি, তাই করজাল সম্প্রসারণ, ব্যবসার আনুষ্ঠানিকীকরণ ও সহজ করপ্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে নতুন করদাতাদের যুক্ত করা জরুরি। রুপালী হক বলেন, নভেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে বাংলাদেশ বড় আকারের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেখানে টিকে থাকতে হলে মানসম্পন্ন, পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বয়ংক্রিয় করব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে নিয়ম মানা করদাতাদের উপর চাপ কমিয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি সম্ভব হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান বক্তব্যে বলেন, গত বছর ফিকিরের বেশ কিছু বাজেট প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করেছি এবং ভবিষ্যতে করপোরেট করের রিটার্ন সম্পূর্ণ অনলাইনে চালু করতে যাচ্ছি। করের হয়রানি কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা দেশের সুবিধার জন্য।