নিলামে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ১:০৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬

অতিরিক্ত অর্থের চাহিদা মেটাতে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।

নিয়মিত ধারার বাইরে বিশেষ ব্যবস্থায় আরও ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া

হয়েছে।

এ লক্ষ্যে আগামী ৮ এপ্রিল ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের একটি বিশেষ নিলামের আয়োজন

করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার

বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহে মনোযোগী হয়েছে। ফলে প্রচলিত কাঠামোর পাশাপাশি বিশেষ

নিলামের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

এর আগে ১ এপ্রিল একই মেয়াদের ট্রেজারি বিল ইস্যু করে ৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা

হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে এমন স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণ সরকারের নগদ প্রবাহের চাপে থাকার

ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের ব্যয় বেড়েছে বিভিন্ন কারণে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিজনিত ভর্তুকির

চাপ এবং রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

বাস্তবায়নেও অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার

তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের

চাপ আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক

কর্মসূচি যেমন নতুন কার্ডভিত্তিক উদ্যোগ ও কৃষিঋণ মওকুফ—এগুলোও তহবিলের চাহিদা

বাড়িয়েছে।

সাধারণত বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে

থাকে। স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে ট্রেজারি বিল এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য

বন্ড ব্যবহৃত হয়, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে

বিক্রি করা হয় এবং তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত।

তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ করলে

মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। যদিও বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায়

ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি

কমে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফেব্রুয়ারিতেও এই

প্রবণতায় তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

অন্যদিকে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং

খাত থেকে প্রায় ৯৮ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা পুরো অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার

প্রায় ৯৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এবং

বাকি অংশ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের কারণে সরকারের

ঋণনির্ভরতা বাড়ছে, যা সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলতে পারে।